আবরার হত্যার বিচার চাইলেন অভিভাবকরা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৩:০৭

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে উদ্বিগ্ন ছিলেন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আগত অভি-ভাবকেরা। পরীক্ষা নিয়ে সংশয় কাটলেও এখন তারা এই মেধাবী তরুণের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চান। গতকাল সোমবার নিজ নিজ সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার জন্য নিয়ে এসে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন তারা। গতকাল সকাল ৭টা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। সকাল ৯টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১২টায়। পরীক্ষা শুরুর আগে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

আবুল হোসেন নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসে। এখানে এমন একটি ঘটনা ঘটবে, শিক্ষার্থীদের ওপর র্যাগিংয়ের নামে নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করা হয়, তা আমরা জানতাম না। তার মানে, আমার সন্তান এখানে পড়ার সুযোগ পেলে তাকেও কি র্যাগিংয়ের নামে নির্যাতিত হতে হবে? এ কথা ভাবলেও তো শিউরে উঠছি। ভবিষ্যতে এগুলো এড়াতে আবরারের হত্যাকারীদের কঠোর সাজা দাবি করছি।’

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে কামরুন্নাহার নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী নির্যাতনের খবর খুবই বেদনাদায়ক। বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং এবং রাজনীতিতে দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’ হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ‘এতদিন আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম ভর্তি পরীক্ষা হবে কি না। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে আমাদের উদ্বেগ কমেছে। এখন আমাদের উদ্বেগ এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে।’

বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমের সামনে আসেন। সংবাদ সম্মেলনে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নভাবে হয়েছে বলে জানান তিনি। উপাচার্য বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের প্রভাব ভর্তি পরীক্ষায় পড়েনি। ৯০ ভাগ আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

বুয়েটের হলে হলে অবৈধ শিক্ষার্থীদের বিতাড়ন অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেকোনো প্রয়োজনে আমার সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। আশা করি, তারা আমাদের সহযোগিতা করবে। কারণ তাদের দাবির বিষয়ে আমরা একমত। যে সমস্যা রয়েছে, আমরা সেগুলো সমাধানে বেশ কয়েকটি কমিটি করেছি। আশা করি দ্রুতই সংকট নিরসন হবে।’

এ সময় উপাচার্যের কাছে অভিভাবকেরা আবরার হত্যার বিচার চান। জবাবে তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে আমরা আন্তরিক। সরকারও বিচারের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই আশা করি সুষ্ঠু বিচার হবে।’

এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে আজ থেকে আবারও আন্দোলনে নামছেন বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন বুয়েটের শহিদ মিনারের সামনে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালনের সময় এ কথা জানিয়েছেন তারা। গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করা অবস্থায় বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে তাদের আন্দোলন দুই দিনের জন্য শিথিল করা হয়েছিল। আজ মঙ্গলবার থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হবে। ১০ দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’

ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়, এ বছর ভর্তির জন্য ১৬ হাজার ২৮৮টি আবেদন পড়েছিল। তার মধ্য থেকে ১২ হাজার ১৬১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৮ হাজার ৮৯৬ জন ছাত্র ও ৩ হাজার ২৬৫ জন ছাত্রী। আর মেধা অনুযায়ী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন ১ হাজার ৬০ জন।