গাজীপুর মহানগরে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। চোর-ছিনতাইকারীদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গাজীপুর মহানগরবাসী। এসব ঘটনায় অধিকাংশ ভুক্তভোগী হয়রানির ভয়ে থানায় জিডি বা অভিযোগ করছেন না।
জানা গেছে, গত ১৫ দিনে মহানগরের নীলের পাড়া এলাকার অন্তত ১০ বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব বাড়ির দরজা, জানালা ভেঙে চোর ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, টিভি, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করেছে। এছাড়া বিভিন্ন বাড়ি ও ডেইরি ফার্ম থেকে গরু চুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা স্থানীয় নীলের পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী কাকুল হাসানের বাসায় হানা দেয়। তারা বাথরুমের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে নগদ ২৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। একই রাতে একই এলাকার মাফিজ উদ্দিনের গোয়াল ঘর থেকে একটি গাভী ও মানিক মিয়ার দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। এছাড়া একই এলাকায় গত দুই সপ্তাহে অ্যাডভোকেট মাহবুব আলম, হাবিবুল্লা হবি ও পুলিশের সার্জেন্ট আলমের বাসার গেটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় চোরের দল। ঐ এলাকার হানিফের বাড়ি থেকেও অর্ধলক্ষাধিক টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। মহানগরের সামান্তপুর, ছোট দেওড়া, যুগিতলা, পূবাইল, গাছা, বাসন, কোনাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকাতেও প্রায় প্রতিরাতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া এলাকার অনেকের বাড়ির তালা ভেঙে চোরেরা চুরি করতে গিয়েছিল কিন্তু বাড়ির লোকজন টের পেয়ে যাওয়ায় চোরেরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার জানান, কয়েকদিন আগে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষিগেট ফাইজুলের মার্কেট এলাকার একটি ডেইরি ফার্ম থেকে ১০টি গরু নিয়ে যায় চোরেরা। তড়ত্পাড়া এলাকার ওসমান ও রশিদ মাতাব্বরের বাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, এসব ঘটনার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই থানায় জিডি বা কোনো ধরনের অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তারপরও আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব।
এদিকে জাপান টোব্যাকোর মালিক ব্যবসায়ী নূরুল হক রতনসহ স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনে গাজীপুর মহানগর এলাকায় ছিনতাই ও চুরির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার অফিস থেকে ১৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা নিয়ে রতন ও তার ছয় কর্মচারী পূবালী ব্যাংকে যাচ্ছিলেন। কিছুদূর যাওয়ার পর (শালবন হোটেলের সামনে) হঠাত্ পাঁচ-ছয় জন ছিনতাইকারী দুটি মোটরসাইকেলযোগে এসে ফাঁকা গুলি ছুড়ে ও তাদের মারধর করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এতে রতনসহ দুই জন আহত হন। পুলিশ ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার বা ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করতে পারেনি। এ ঘটনার কিছুদিন আগে ভোগড়া বাসন সড়ক এলাকায় স্থানীয় ওয়াসিফ নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতনের ৩৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। জিএমপির বাসন ও সদর থানার ওসি জানান, পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
