বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংকট নিয়া খবর সাম্প্রতিক সময়ে বারবার সংবাদপত্রে আসিতেছে। সেখানে উপাচার্যসহ শীর্ষ পাঁচ পদ শূন্য থাকায় ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা নিয়া অনিশ্চয়তা দেখা দিয়াছিল। এখন সেই আশঙ্কাই সত্য হইয়াছে, ভর্তি পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হইয়াছে। এদিকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদ শূন্য থাকায় চরম সংকট দেখা দিয়াছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এতগুলো প্রধান পদ শূন্য রাখিয়া একটি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো ক্রমেই চলিতে পারে না। ফলে অনিবার্যভাবেই একটি লেজে-গোবরে অবস্থার সৃষ্টি হইয়াছে। প্রশাসনিক কাজে সমন্নয়হীনতা দেখা দিয়াছে। দলাদলিতে ভাঙিয়া পড়িয়াছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো। যে যাহার মতো কাজ করিতেছে, কেহ কাহারো কথা শুনিতেছে না। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সংকটের সূচনা ঘটিয়াছে আরো পূর্বে। বেশ কয়েক মাস পূর্বে তত্কালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ছুটিতে যাইতে বাধ্য হইলে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান উপাচার্যের দায়িত্ব পান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির তত্কালীন সংকট মোকাবিলায় কাজ করিয়াছেন। সেই ক্ষেত্রে তাহার সফলতাও রহিয়াছে। কিন্তু তাহার ট্রেজারারের পদের মেয়াদ শেষ হইয়াছে গত ৩ অক্টোবর। এইদিকে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, আসন বণ্টনসহ পরীক্ষা গ্রহণের প্রধান হলেন উপাচার্য। ফলে উপাচার্যের পদ শূন্য রাখিয়া কোনোভাবেই ভর্তি পরীক্ষা হইতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এই যে সংকট সৃষ্টি হইল, তাহা পূর্ব হইতেই ধারণা করা যাইতেছিল। তাহার পরও কেন পদক্ষেপ লওয়া হইল না, তাহা আমাদের প্রশ্ন। জানা গিয়াছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির সিন্ডিকেটের কার্যক্রমেও একপ্রকার নেতিবাচকতা নামিয়া আসে প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হকের সময় হইতেই। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন সিন্ডিকেট সদস্য যাহারা স্থানীয় ছিলেন, তাহাদের সরাইয়া দেন তিনি। তাহার সময়কালে সিন্ডিকেট চলিতেছিল আজ্ঞাবাহীদের লইয়া। সিন্ডিকেটের প্রধান উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে বর্তমানে সিন্ডিকেটও অকার্যকর রহিয়াছে। এদিকে প্রধান পাঁচ পদের শূন্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্তঃকোন্দল চরম আকার ধারণ করিয়াছে। ফলে সব মিলাইয়া উচ্চশিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি এখন বড়ো রকমের সংকটে পড়িয়াছে। এই সংকট মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ না লইলে সংকট আরো গভীর হইবে; ভর্তি পরীক্ষা নিয়া দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হইবে যাহা কোনোভাবেই কাম্য নহে। কাজেই আমাদের প্রত্যাশা, এই সংকট কাটাইয়া উঠিতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হউক।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মুখোমুখি বর্তমান দুনিয়ায় মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ব্যতীত একটি জাতির অগ্রগতি সম্ভব নহে। তাহার উন্নতি অনেকটা উচ্চশিক্ষার মানের সমানুপাতিক। সেই দিক দিয়া আমরা পিছাইয়া আছি। আমাদের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্ব র্যাংকিংয়ে ভালো অবস্থানে নাই। তাহার অনেক কারণ রহিয়াছে। তবে প্রধান কারণ হইল, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমাদের অনীহা। এই অনীহা কাটাইয়া উঠিতে হইবে। বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের মতো আমাদেরও একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় উদ্যমী হইতে হইবে।
