অষ্টম শ্রেণির একছাত্র ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকের কাছে পানি খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। শিক্ষক বলেছিলেন একটু পরে। ১০ মিনিট পর আবার পানি খাবে বলে জানায় ঐ ছাত্র। আর তখনই শিক্ষক বলেন, ‘পানি খাবি, দাঁড়া পানি খাওয়াচ্ছি’ এই বলে শিক্ষক ছাত্রটির শরীরে ২৫-৩০টি বেত্রাঘাত করেন। বেত্রাঘাত শেষে পাষণ্ড ঐ শিক্ষক ছাত্রকে বলেন, ‘কি রে এবার তৃষ্ণা মিটেছে তোর।’ ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আদর্শ স্কুলে। গত সোমবার দুপুরের এ ঘটনাটি প্রভাবশালীদের চাপে ধামাচাপা দিলেও স্কুলছাত্রের পরিবার অসুস্থ ছাত্রকে চিকিত্সা করাতে গেলে ফাঁস হয়ে যায় নির্যাতনে ঘটনা। গতকাল মঙ্গলবার স্কুলছাত্রের শরীরের বেত্রাঘাতের দাগের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে শুরু হয় তোলপাড়।
বেত্রাঘাতে আহত ছাত্র আকমল (১৪) সদর থানার দেওভোগ এলাকার শাহাদাত হোসেনের ছেলে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানায়, ফতুল্লার মাসদাইর আদর্শ স্কুলের ৮ম শ্রেণির সি শাখার ছাত্র আকমল গত সোমবার ক্লাস চলাকালীন ক্লাসের বিজ্ঞান শিক্ষক ফরিদউদ্দিনের কাছে পানি পানের ইচ্ছা প্রকাশ করে। তখন ফরিদ স্যার বলে, ‘পরে পানি খাও।’ ১০ মিনিট পর আকমল পুনরায় পানি খাওয়ার কথা বললে স্যার বেত নিয়ে এসে আকমলকে এলোপাতাড়ি পেটায়। এতে ক্লাসেই অসুস্থ হয়ে পড়ে আকমল। ক্লাস ছুটি শেষে বাড়ি চলে যায় আকমল।
আকমলের বাবা শাহাদাত জানান, ‘বাসায় ফিরে আকমলের প্রচণ্ড জ্বর আসে। ঐ সময় আকমলকে কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করলেও সে কিছু বলছিল না। পরে হাতে লাল দাগ দেখে স্কুলের ইউনিফর্ম খুলে দেখি অসংখ্য মারের দাগ। বিষয়টি নিয়ে আমি কাউকে কিছু বলতে চাইনি। কিন্তু যেখানে চিকিত্সা নিতে গিয়েছিলাম সেখান থেকে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে। ঐখানে থাকা কেউ একজন আকমলের গায়ের মারের দাগের ছবি তুলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আদর্শ স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কাছে ছেলেকে নিয়ে শরীরের মারের দাগ দেখিয়ে অভিযোগ দিয়েছি।’
এ বিষয়ে প্রধানশিক্ষক আজিজুর রহমান জানান, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। শিক্ষক ফরিদউদ্দিনের বিরুদ্ধে আমি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এদিকে স্থানীয়রা জানায়, শিক্ষক ফরিদউদ্দিনের খুঁটির জোর ঐ এলাকার এক আওয়ামী লীগ নেতা। ঐ নেতার কারণে ফরিদউদ্দিনকে কেউ কিছু বলতে পারে না। ফরিদউদ্দিন মাসদাইর এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে স্কুলে ব্যাচ পড়ায়। ওখান থেকে ঐ নেতাকে নিয়মিত মাসোহারা দেয় সে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ফরিদের কাছে মোবাইল ফোনে ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি ঐ আওয়ামী লীগ নেতা দেখছেন। এ বলেই তিনি ফোনটি কেটে দেন।
