ইত্তেফাক রিপোর্ট
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের তিন পার্বত্য জেলার মানুষের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা পুরোদমে শুরু হলেও এখন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।
গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলার আদিবাসী ভোটারদের অবাধ অংশগ্রহণ’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এএলআরডি’ যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রস্তুতি পুরোদমে শুরু হলেও এখনও পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে তার প্রতিকারের লক্ষ্যে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের এমন নির্লিপ্ত ভূমিকায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। চলতি বছর পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সীতাকুণ্ড ও রাউজানে আদিবাসী নারীর ওপর আক্রমণ, ধর্ষণ, হত্যা, অপহরণ এবং ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টার মতো ২০টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী খুশি কবীর বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক দিক। ফলে মানুষ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনারের। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা দিতে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের সুপারিশ জানান সুলতানা কামাল। আরও বক্তব্য রাখেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির গৌতম দেওয়ান, অধ্যাপক মংসানু চৌধুরী, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রমুখ।
