বৈশ্বিক ক্ষুধা ও অপুষ্টির সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ২২:২৫

চলতি বছরের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও অপুষ্টির সূচকে ১১৭ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮তম। গত বছরের চেয়ে বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক বা জিএইচআইতে দুই ধাপ (৮৬তম) অবনতি হলেও এ বছর সার্বিকভাবে উন্নতির দিকেই রয়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান, ভারত ও আফগানিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে আছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট মঙ্গলবার জিএইচআই-২০১৯ প্রকাশ করে।

জিএইচআই তৈরি হয়েছে প্রতিটি দেশের অপুষ্টি, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম ওজনের শিশু, পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে কম উচ্চতার শিশু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর চারটি         মাপকাঠিতে। এই চারটি মাপকাঠিতে প্রতিটি দেশের স্কোর হিসাব করা হয়েছে ১০০ পয়েন্টের ভিত্তিতে। এই সূচকে সবচেয়ে ভালো স্কোর হলো শূন্য। স্কোর বাড়লে বুঝতে হবে, সেই দেশের ক্ষুধার পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। আর স্কোর কমা মানে, সেই দেশের খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।    

শূন্য অর্থে, সে দেশে কোনো মানুষ অনাহারে নেই। ১০-এর কম স্কোর পাওয়ার অর্থ হলো সেই দেশে ক্ষুধার সমস্যা কম। ২০ থেকে ৩৪.৯ স্কোরের অর্থ তীব্র ক্ষুধা, ৩৫ থেকে ৪৯.৯ অর্থ ভীতিকর ক্ষুধা আর ৫০ বা তার বেশি স্কোর বলতে বোঝায় চরমভাবে ভীতিকর ক্ষুধায় পীড়িত দেশকে। এই মাপকাঠিতে চলতি বছরের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ২৫ দশমিক ৮। যা বাংলাদেশকে ‘তীব্র ক্ষুধাপীড়িত’ দেশের তালিকাভুক্ত করেছে।

চলতি বছরসহ পাঁচ বছরে অবস্থানে খুব সামান্য তারতম্য হলেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের ক্রমোন্নতির চিত্র। ২০০০ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১০০-র মধ্যে ৩৬.১, অর্থাত্ ‘ভীতিকর’। এর পাঁচ বছর পর, ২০০৫ সালের সূচকে সেই স্কোর কমে ৩০.৭-তে দাঁড়ায়। অর্থাত্ বাংলাদেশ ‘ভীতিকর’ থেকে ‘তীব্র’ ক্ষুধাপীড়িত দেশের কাতারে চলে আসে। আরো পাঁচ বছর পর অর্থাত্ ২০১০ সালে স্কোর সামান্য একটু কমে ৩০.৩ হয়। আর তারপর টানা নয় বছরের ব্যবধানে এবারের সূচকে বাংলাদেশ পেল ২৫.৮, যা ধারাবাহিক উন্নতিকেই সামনে এনেছে। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, বাংলাদেশের উন্নতি ঘটছে ধারাবাহিকভাবে। মোট স্কোর গতবারের ২৬.১ থেকে কমে হয়েছে ২৫.৮। 

এবারের সূচকে ভারতের স্কোর ৩০.৩। ভারতে এই অনাহারের সমস্যা বেশ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ২০১৪ সালে ভারত তালিকায় ছিল ৫৫ নম্বরে। এবার নেমে এসেছে ১০২ নম্বরে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার  আফগানিস্তান ১০৮, পাকিস্তান ৯৪, নেপাল ৭৩, মিয়ানমার ৬৯ এবং শ্রীলঙ্কা ৬৬তম অবস্থানে রয়েছে। ভুটানের স্কোর নির্ণয়ের মতো পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জিএইচআইয়ের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।