উত্তর ভারতে একটি মাটির পাত্রে জীবিত অবস্থায় কবর দেওয়া যে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, সে এখন বেঁচে থাকতে লড়াই করছে। সেপটিসেমিয়া এবং মারাত্মকভাবে কম প্লেটলেট গণনার কারণে শিশুটির সার্বিক পরিস্থিতি গুরুতর বলে জানিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ রবি খান্না। বিবিসিকে তিনি বলেন, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে পাঁচ থেকে সাত দিন পরেই নিশ্চিতভাবে সেটা জানাতে পারব। পুলিশ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে এবং বলেছে যে তারা এই কন্যা নবজাতকের বাবা-মাকে খুঁজছে। শিশুটিকে এভাবে কবর দেওয়ার পেছনে তারা সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো কোনো অনুমান করছেন না, তবে লিঙ্গ বৈষম্যের দিক থেকে বিশ্বের মধ্যে ভারতের অবস্থান খুবই খারাপ।
গত বৃহস্পতিবার ঘটনাক্রমে এই নবজাতকের সন্ধান পেয়েছিলেন গ্রামের এক বাসিন্দা। তিনি তার নিজের অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেওয়া একটি মৃত কন্যা শিশুকে কবর দিতে গিয়ে ঐ নবজাতকের সন্ধান পান। হিন্দুরা সাধারণত তাদের মৃতদেহ পুড়িয়ে থাকে, তবে নবজাতক এবং ছোটো শিশুদের প্রায়শই কবর দেওয়া হয়। বারেইলি জেলার সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা ?আভিনন্দন সিং বলেন, তারা যখন মাটির নীচে প্রায় ৩ ফুট পর্যন্ত খনন করছিলেন, তখন তাদের কোদালটি একটি মাটির পাত্রে আঘাত করে এবং সেই আঘাতে পাত্রটি ভেঙে যায় এবং তারা একটি শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। যখন তারা পাত্রটি টেনে ওপরে তুলে আনেন তখন এর ভেতরে তারা ঐ শিশুটিকে দেখেন। শিশুটিকে এরপর স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
শিশুটি কতক্ষণ মাটির নিচে চাপা পড়েছিল সে বিষয়ে আলাদা আলাদা অনুমান রয়েছে। তবে চিকিত্সকরা বলছেন যে, তারা কেবল এটাই বলতে পারবেন যে শিশুটি কীভাবে বেঁচে ছিল। ডা. খান্না বলেন, তিন থেকে চার দিন আগে কবর দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। শিশুটি এতদিন তার ব্রাউন ফ্যাটের কারণে বেঁচে আছে। বাচ্চারা তাদের পেটে, উরু এবং গালে ফ্যাট নিয়ে জন্মায় এবং কিছুটা জরুরি অবস্থায় তারা এটার ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু সেই শক্তি ফুরিয়ে যাওয়ার পর শিশুটির শরীর কুঁকড়ে যেতে থাকে।
তবে ডা. অঞ্জনের ধারণা তার চেয়ে কিছুটা আলাদা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, শিশুটি উদ্ধারের দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে সমাধিস্থ করা হয়েছিল এবং যদি তাকে উদ্ধার না করা হতো তবে সম্ভবত আরো এক বা দুই ঘণ্টার জন্য বেঁচে থাকতে পারত। তিনি বলেন যে, পাত্রটির ভেতরে শিশুটিকে রাখা হয়েছিল সেখানে একটি বাতাসের পকেট ছিল যা তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করেছে। অথবা কিছু অক্সিজেন হয়তো আলগা হয়ে যাওয়া মাটির ভেতর দিয়ে ফিল্টার হয়ে ভেতরে প্রবেশ করেছে। যেহেতু পাত্রটি ঘন মাটির তৈরি না। তাই এটিও বাতাস চলাচলে সহায়তা করতে পারে।
স্থানীয় রাজ্য নেতা রাজেশ কুমার মিশ্র, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) থেকে বলেছেন যে, তিনি বাচ্চাটিকে দত্তক নিয়েছেন এবং একবার যদি শিশুটি ভালো হয়ে ওঠে, তবে তিনি এবং তার স্ত্রী শিশুটিকে নিজ বাড়িতে বড়ো করবেন।
