ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি নিয়ে রাজনৈতিক স্পর্শকাতর মামলার দৈনিক শুনানি গতকাল সুপ্রিম কোর্টে শেষ হয়েছে। তবে মামলায় রায়দান স্থগিত রেখেছে শীর্ষ আদালত। শুনানির মধ্যেই বিতর্কিত জমির একটি মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে অন্যান্য বিচারপতিদের নিয়ে আদালত ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি পর্যন্ত দেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার পত্রিকার
১৭ নভেম্বর আদালত রায় দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দশেরার ছুটির পর সোমবার দৈনিক শুনানি শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট। মুসলিম প্রতিনিধিদের বক্তব্য শোনে শীর্ষ আদালত। তারা আদালতে জানান, ১৯৮৯ এর আগে পর্যন্ত জমি নিয়ে হিন্দুদের পক্ষে কোনো দাবি ছিল না। ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙার আগে, সেখানে যেভাবে বাবরি মসজিদ ছিল, সেভাবে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান মুসলিম প্রতিনিধিরা।
মানচিত্র ছেঁড়ার নাটক
নাটকের সূত্রপাত একটি বই ঘিরে। কুণাল কিশোরের লেখা ঐ বই আদালতে রাম জন্মভূমির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে পেশ করার চেষ্টা করেন সর্বভারতীয় হিন্দু মহাসভার আইনজীবী বিকাশ সিংহ। তা দেখে মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী রাজীব ধবন বলেন, এই ধরনের বইয়ের ওপর সুপ্রিম কোর্টের নির্ভর করা উচিত নয়। তারপরই তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বইটি ছিঁড়ে ফেলার অনুমতি চান। বিচারপতিদের জিজ্ঞাসা করেন, এটা ছিঁড়তে কি আপনাদের অনুমতি পেতে পারি? বিরক্ত প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেন, যা ইচ্ছে তা-ই করুন। এরপরই বইয়ে থাকা ‘রাম জন্মভূমি’ চিত্রিত মানচিত্রের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে ফেলেন ধবন। এ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতি আদালত থেকে চলে যাওয়ার হুমকি দেন। পবন তখন আদালতে বলেন, সবাই বলছেন আমি নাকি মানচিত্রটা ছিঁড়ে ফেলেছি। কিন্তু ছিঁড়েছি তো প্রধান বিচারপতির অনুমতি নিয়ে। প্রধান বিচারপতি গগৈ ধবনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, হ্যা, আমিই তো বলেছিলাম আপনার যা ইচ্ছা করুন। মানচিত্র ছিঁড়ে ফেলার পর্বের ইতি হয় এখানেই।
