বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উত্সব ‘ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে’কে ঘিরে রং লেগেছে পাহাড়ে। রাজবাড়ী মাঠ, কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার, রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার, সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহারসহ আশপাশের ক্যায়াংগুলো থেকে উড়ানো শত শত ফানুসে রঙিন হয় বান্দরবানের রাতের আকাশ।
ওয়াগ্যোয়াই উত্সবের প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে মঙ্গল রথযাত্রা। রাতের এ রথযাত্রা দেখার জন্য রাস্তার দু’পাশে বৌদ্ধ ধর্মালম্বী ছাড়াও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের ভিড় জমে। রথ যাত্রায় অংশ নেয় পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা। অপরদিকে পাহাড়ি পল্লিগুলোতে মারমা তরুণ-তরুণী এবং শিশু-কিশোররা সারিবদ্ধভাবে বসে হরেক রকমের পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা জানায়, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সম্প্রদায় ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) উত্সব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রচলিত আছে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবক্তা গৌতম বুদ্ধ এই আশ্বিনী পূর্ণিমায় তার মাথার চুল আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিল। তাই আশ্বিনী পূর্ণিমার এই তিথিতে আকাশে উড়ানো হয় ফানুস বাতি।
উত্সব উদযাপন কমিটির সদস্য কোকো চিং মারমা জানান, ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সব’কে ঘিরে বান্দরবানে এবারও চার দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। তার মধ্যে রয়েছে মঙ্গল রথযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাজার প্রদ্বীপ প্রজ্বলন, পিঠা তৈরি প্রতিযোগিতা, ফানুস বাতি উড়ানো, পঞ্চশীল গ্রহণ এবং ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানমালা। ময়ূর আকৃতির তৈরি করা মঙ্গল রথ বিসর্জনের মাধ্যমে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উত্সবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও পাহাড়ি পল্লিগুলোতে উত্সব চলবে আরো কয়েকদিন।
