দেশের প্রধান ছয়টি কাস্টমস হাউজের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে চট্টগ্রাম কাস্টমসের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের মূল্যে ধস, উচ্চ শুল্কের পণ্যের আমদানি হ্রাস এবং বিভিন্ন শুল্ক কেন্দে পণ্যের একই মূল্য ও শুল্কারোপ অনুসরণ না করায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিমত।
চট্টগ্রাম, বেনাপোল, ঢাকা, মোংলা, পানগাঁও ও ঢাকা কমলাপুর আইসিডি এই ছয়টি কাস্টমস হাউজের মাধ্যমে দেশের আমদানি ও রপ্তানির সিংহভাগ হয়ে থাকে। মূলত দেশের শুল্ক আদায়ের অন্যতম প্রধান কেন্দ হিসেবে দেখা হয়। এগুলোর মধ্যে আবার চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের মাধ্যমে শতকরা ৯২ ভাগ আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। সে হিসেবে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের শুল্ক আদায়ের দিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বেশি নজর থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ নানা কারণে তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে কিংবা এর প্রবৃদ্ধি অনেক কমে গেছে।
চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০২০) প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি দেখলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের প্রবৃদ্ধি শতকরা ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৬ ভাগ। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের বিগত বছরগুলোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি নেতিবাচক বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অভিমত। বাংলাদেশ প্রধানত আমদানি নির্ভর দেশ। সে হিসেবে গত কয়েক বছর ধরে দেশের আমদানির পরিমাণও অনেক বেড়েছে। কিন্তু বাস্তব অবস্থায় সরকারের বিদ্যুত্ প্রকল্পসহ মেগা প্রকল্পসমূহের কাঁচামাল ও অবকাঠামো উন্নয়নের সরঞ্জামাদি আমদানির পরিমাণ সর্বাধিক। এসব প্রকল্প সরঞ্জামাদির আমদানি শুল্ক তেমন একটা না থাকায় বাস্তবে শুল্ক আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উত্তরণে তেমন একটা ভূমিকা রাখছে না। এর বাইরে দেশে ভোগ্যপণ্যসহ অনেক শুল্কযোগ্য পণ্যের আমদানি কমে গেছে। আবার আমদানি পণ্যের অনেকগুলো পোর্ট চার্জসহ শুল্কায়নের তারতম্যের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস না করে দেশের অন্যান্য শুল্ক স্টেশনে চলে যায়। দেশে রি-কন্ডিশন্ড গাড়ির আমদানি অপেক্ষাকৃত হ্রাস পেয়েছে। আবার পোর্ট চার্জ কম হওয়াসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুবিধার কারণে চট্টগ্রামের আমদানিকারকগণের অনেকে মোংলা বন্দরে গাড়ি খালাস করে। একইভাবে বিপি শিট, জিপি শিট, ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ অনেক পণ্য পূর্বে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের মাধ্যমে খালাস করলেও বর্তমানে ঢাকা আইসিডি, পানগাঁও, মোংলার মাধ্যমে খালাস করছে। দেশে এলএনজি ও এলপির প্রচলন বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি তেলের ও অপরিশোধিত তেলের আমদানি কমেছে। মোটরসাইকেল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংযোজন কারখানা বৃদ্ধি পাওয়ায় পড়ে গেছে তৈরি মোটরসাইকেল আমদানি। ফলে এই খাতেও শুল্ক আয় হ্রাস পেয়েছে বলে জানা যায়। এমনকি ভোজ্যতেলের আমদানিও কমে গেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সয়াবিন বীজ এনে স্থানীয় পর্যায়ে সয়াবিন অয়েল তৈরি করছে। তাছাড়া সয়াবিন বীজের ওপর শুল্ক না থাকায় পুরো ভোজ্যতেল খাত থেকে শুল্ক আয়ও কমে গেছে। অন্যদিকে কমে গেছে প্যান্ট, স্যুটসহ উচ্চ শুল্কের কাপড় আমদানিও।
