সিরিয়ায় নিহত আইএসের সন্তানদের ভবিষ্যত্ কী

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১১

সিরিয়ায় আইএসে যোগ দেওয়া বহু ইউরোপীয় নাগরিক নিহত হওয়ায় তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত্ এক অনিশ্চিত পথে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয়েছে আইনি জটিলতা।

দেশটিতে আইএসের শক্ত ঘাঁটিগুলো পতনের পর তাদের অনেকের পরিবারের আশ্রয় মিলেছে শিবিরে। রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে তাদের দেশে ফেরার পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিবিসি রিয়ালিটি চেক তিনটি অনাথ শিশুর ঘটনা দেখার চেষ্টা করেছে যাদের বাবা-মা যুক্তরাজ্য থেকে সিরিয়াতে এসে ইসলামিক স্টেট গ্রুপে যোগ দেন। যুদ্ধে তারা মারা গেলে তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত্ অন্ধকারে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। বাবা জঙ্গি হওয়ার কারণে অনেক দেশই তাদের দায়িত্ব নিয়ে চাইছে না। উত্তর সিরিয়াতে একটি আশ্রয় শিবিরে থাকত তিন শিশু আমিরা, হেবা ও হামজা। সম্প্রতি জাতিসংঘ তাদের উদ্ধার করে রাকা শহরে নিয়ে যায়। কিন্তু তাদের প্রত্যাবাসনে শুরু হয়েছে আইনি জটিলতা। সাধারণত বিদেশি নাগরিকেরা নিজ দেশের দূতাবাসের সহায়তা পাওয়ার অধিকার রাখে। উত্তর সিরিয়ার যে অংশে ইসলামিক স্টেট যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য শিবিরটি তৈরি করা হয়েছিল, সেই এলকাটি এখন কুর্দিদের দখলে।

আন্তর্জাতিক কমিটি অব দ্য রেডক্রস বা আইসিআরসি এই ব্যাপারে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তারা বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা বিদেশিদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে সরাসরি সেই দেশগুলোর দূতাবাস বা কনসুলারে যোগাযোগ করেছে। কিন্তু সেসব দূতাবাস থেকে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি। আর একটি সমস্যা হলো বহু দেশ সিরিয়াতে তাদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে। আইসিআরসির প্রধান পিটার মরার এ বছরের শুরুতে বলেছিলেন, ‘একটি খুব জটিল পরিস্থিতির দিকে আমরা তাকিয়ে আছি। জরুরি মানবিক সহায়তা দেওয়া ছাড়া কেউই কোনো প্রক্রিয়া বা অবকাঠামো তৈরি করে বিষয়টি সামাল দিতে আগ্রহী নয়।’ কোনো কোনো দেশ নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে বলেছে, এই মুহূর্তে তাদের কর্মকর্তাদের সিরিয়াতে পাঠানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। যুক্তরাজ্যের একটি পালার্মেন্ট সদস্যদের দল সেখানে গেছেন। সেই দলের কনজারভেটিভ এমপি ক্রিসপিন ব্লান্ট বলেন, সিরিয়া থেকে ব্রিটিশ নাগরিকদের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এমন একটি বোঝা, যা আমাদের বহন করতে হবে এবং শিশুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়া অবশ্য সম্প্রতি বলেছে, তারা শিশুদের উদ্ধার করার জন্য কোনো ঝুঁকি নিয়ে তাদের কর্মকর্তাদের সেখানে পাঠাবে না। বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই বেশ কিছু শিশুকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। যেমন রাশিয়া প্রায় ১৪৫ থেকে ২০০ মতো শিশুকে বিমানে করে ফিরিয়ে এনেছে। বেশ কয়েকটি মধ্য এশিয়ার দেশও অনেক শিশুকে প্রত্যাবাসন করেছে। মে মাসে কাজাখস্থান সিরিয়ার শিবির থেকে ২৩০ জন কাজাখ নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে, যাদের বেশির ভাগই শিশু। কিন্তু তার পরও এখনো সেখানে বিভিন্ন শিবিরে এভাবে যারা রয়েছে, তাদের ভবিষ্যত্ কোন পথে তা অনেকেরই অজানা।      —বিবিসি বাংলা