চুরি হচ্ছে আসবাবপত্র
jvস্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ও পুঠিয়া সংবাদদাতা
রাজশাহীর পুঠিয়ায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছয়টি গণমিলনায়তন কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তদারকি না থাকায় এগুলো বেদখল হতে চলেছে। মাদকসেবীরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে গণমিলনায়তনের বিভিন্ন আসবাব। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাকা বরাদ্দ না থাকায় ভবনগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না।
উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর অফিস সূত্র জানায়, ১৯৮০ সালের দিকে ইউনিয়ন সমাজসেবা গণমিলনায়তন কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়। ঐ সময় সারাদেশের ১৯টি জেলার মডেল উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই গণমিলনায়তন প্রতিষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কারিগরি শিক্ষা, স্বল্প ও সহজ সুবিধায় ঋণ প্রদানের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের সহায়ক ভূমিকা রাখা।
ঐ সময় পুঠিয়া উপজেলায় ছয়টি গণমিলনায়তন কেন্দ্র স্থাপিত হয়। এর মধ্যে শিলমাড়িয়া, জিউপাড়া, ভালুকগাছি, বানেশ্বর, বেলপুকুর ও সদর ইউনিয়নে স্থাপিত গণমিলনায়তন তদারকির জন্য প্রতিটিতে একজন করে ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন অবকাঠামো সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব দেখিয়ে ১৯৯২ সালের দিকে ইউনিয়ন এলাকা থেকে গণমিলনায়তনের সব কার্যক্রম বন্ধ করে উপজেলা সদরে আনা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, তদারকির অভাবে ইউনিয়ন সমাজসেবা গণমিলনায়তন কেন্দ্রগুলো ঝোঁপঝাড়ে ঢেকে রয়েছে। বেশির ভাগ কেন্দ্রের দরজা-জানালাও অবশিষ্ট নেই। বিভিন্ন আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি অযত্নে-অবহেলায় যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন গণমিলনায়তন ভবন গরু-ছাগলের খাবার ও খড়ি রাখার ঘর হিসেবেও ব্যবহার করছেন।
জিউপাড়ার আশরাফ আলী বলেন, আগে ইউনিয়ন সমাজসেবা গণমিলনায়তন কেন্দ্রে এলাকার বেকার ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ নিত। গ্রামের অসচ্ছল ব্যক্তিদের সহজ শর্তে ঋণ আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল এসব কেন্দ্র। কিন্তু সমাজসেবার এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় বখাটেরা অসামাজিক কাজ শুরু করে। অনেকই খড়কুটো রাখার ঘর হিসাবে ব্যবহার করছে।
পুঠিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ছয়টি ইউনিয়ন গণমিলনায়তন কেন্দ্রের মধ্যে এখনো দু-একটি ব্যবহার উপযোগী রয়েছে। ফান্ড না থাকায় ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।’
এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের জন্য সমাজসেবা বিভাগের ইউপি গণমিলনায়তন কেন্দ্রগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হয়েছে। অচিরেই এ ভবনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’
