বেড়জালে মারা হচ্ছে গাজনার বিলের পোনা ও মা মাছ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১০

সুজানগরের ঐতিহ্যবাহী গাজনার বিলে নিষিদ্ধ বেড় জাল দিয়ে মারা হচ্ছে পোনা ও মা মাছ। এতে ঐতিহ্যবাহী এই বিল শুষ্ক মৌসুমে মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল। বিল এলাকার শারীরভিট, বস্তাল, স্বাগতা, হাটখালী, বোনকোলা, দুলাই, উলাট, খয়রান, দুর্গাপুর এবং বদনপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে প্রায় দুই হাজার মত্স্যজীবী রয়েছে। এসব মত্স্যজীবীরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রত্যেক বছর বর্ষার শুরুতেই গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ বেড় এবং কারেন্ট জাল দিয়ে রুই, কাতলা, টেংরা, বান, কৈ এবং পুঁটি মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা ও মা মাছ শিকার করেন। বিশেষ করে বেড় জাল দিয়ে পোনা ও মা মাছ ছেঁকে মারেন বলে বিলপাড়ের উলাট গ্রামের ফজলুল হক মাস্টার জানান।

উপজেলার হাটখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আজাহার আলী শেখ বলেন, প্রত্যেক বছর বর্ষা মৌসুমে বিলে সরকারিভাবে ৩/৪ লাখ টাকার পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। তাছাড়া প্রাকৃতিকভাবেও বিলে প্রচুর পরিমাণে মাছ হয়। কিন্তু উপজেলা মত্স্য বিভাগের উদাসীনতার সুযোগে ঐ মত্স্যজীবীরা বিলে বর্ষার নতুন পানি আসার পর থেকেই বেড় এবং কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে মাছ নিধন করেন।

বিলপাড়ের রানীনগর গ্রামের মাসুদ রানা বলেন, মত্স্যজীবীরা পেটভর্তি ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ শিকার করে প্রকাশ্যে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করলেও দেখার কেউ নেই। ফলে তারা বেড় জাল দিয়ে ঐ মাছ একদম ছেঁকে মারছেন। এতে শুষ্ক মৌসুমে বিল অনেকটা মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।

উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, চলতি প্রজনন মৌসুমে পদ্মায় ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান পরিচালনা করায় বিলের দিকে নজর দিতে পারছি না। তবে শিগিগরই ঐ মত্স্যজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।