রাজশাহী-১: লড়াই হবে দুই জোটের হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:১৪

গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-১ আসন। এ দুই উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ৪রটি পৌরসভার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫২ (নারী ১ লাখ ৯২ হাজার ৭২৩ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৬১৯) জন। এ আসনে নতুন ভোটার ৪০ হাজারের বেশি।

সচেতন ভোটাররা বলছেন, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বড় দুই জোটের দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে। এরা হলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

সূত্র মতে, মহাজোট প্রার্থীর বড় চ্যালেঞ্জ তার বিপরীতে কাজ করা দলের সাতজন নেতা ও তাদের সমর্থকদের আস্থায় আনা। ইতোমধ্যে তাদের এক কাতারে আনা সম্ভব হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে জঙ্গিবাদের মদদ দানসহ একাধিক মামলায় দীর্ঘ প্রায় একযুগ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুলের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের ছন্দে ফেরানো কষ্টকর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এদিকে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রায় ৪৫ শতাংশ আদিবাসী ভোটার রয়েছেন। পুরুষের চেয়ে বেশি নারী ভোটার। এছাড়া নতুন ভোটার রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। ফলে এ আসনে জয় পরাজয়ের নিরামক হতে পারেন আদিবাসী, নারী ও নতুন ভোটাররা।

এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকেই। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এনামুল হককে ১৭ হাজার ৩৩৬ ভোটে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। পরের বার বিএনপি ভোট বর্জন করায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোট লড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী।
জানা যায়, এ আসন থেকে স্বাধীনতার পর বড় দলের প্রার্থীরাই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনা। বর্তমান সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী তার বোনের ছেলে। আগের মেয়াদে শিল্প প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
সূত্র মতে, প্রথম ও ১০ম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও নানা কারণে এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময়ে দুই মেয়াদে দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর মন্ত্রী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আমিনুল হক।
অতীত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৬ সালের আগ পর্যন্ত গোদাগাড়ী-তানোর এলাকা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি ছিল। প্রথম জাতীয় সংসদের মত দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনেও আসনটি ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে এখানে সংসদ সদস্য  নির্বাচিত হন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহসীন। তবে ১৯৮৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি জামায়াতে ইসলামীর কব্জায় চলে যায়। সেবার এমপি নির্বাচিত হন এবার মনোনয়ন বাতিল হওয়া জামায়াত নেতা অধ্যাপক মজিবুর রহমান; যিনি বর্তমানে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমীর। এরপর ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ দুরুল হুদা এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯১ সাল থেকে পাল্টে যায় এখানকার রাজনৈতিক দৃশ্যপট। ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৫ম সংসদ নির্বাচনে ব্যারিস্টার আমিনুল হক বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংস্থাপন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।

ব্যারিস্টার আমিনুল হক ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের ১লা অক্টোবরের ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন। ফলে একটানা তিনবার সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া খালেদা জিয়ার সরকারের দুই মেয়াদেই তিনি প্রথমে প্রতিমন্ত্রী এবং পরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ফারুক চৌধুরী ২০০১ সালের নির্বাচনে আমিনুল হকের কাছে হেরে যান। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমিনুল হকের বিরুদ্ধে জঙ্গি মদদদানসহ ১৯টি মামলা হয়। এতে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। ফলে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন তার বড় ভাই সাবেক পুলিশ প্রধান এনামুল হক। তিনি ফারুক চৌধুরীর কাছে হেরে যান। আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদের শেষ পর্যায়ে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে শিল্প প্রতিমন্ত্রী হন ফারুক চৌধুরী। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংসদ সদস্য হন তিনি।

ইত্তেফক/মোস্তাফিজ