রাজধানীর গুলশান থানার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগীর ফের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার এ রিমান্ডের আদেশ দেন। রিমান্ডের বাকি দুই আসামি হলেন আক্তারুজ্জামান ও রোমান। এর আগে গতকাল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১-এর ?উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুন আর রশিদ মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিদের আদালতে হাজির করেন। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের দখল থেকে ২৩ আইটেমের বিভিন্ন ব্রান্ডের ৪০ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিরা আন্তর্জাতিক চোরাকারবারি দলের সক্রিয় সদস্য, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সময় বিদেশ ভ্রমণ করেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে দেশে-বিদেশে মাদকদ্রব্য আনা নেওয়া করেন। এ মাদক সিন্ডিকেটের কার্যকারিতা নির্মূলের স্বার্থে ও তাদের বাকি সহযোগী পৃষ্ঠপোষকদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করতে ফের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ইয়াসমিন জাহান নিশাত ও ইয়াসিন আরাফাত ভুঁইয়াসহ অন্যরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। এর আগে গত ৩ অক্টোবর মাদক আইনের মামলায় চার দিন ও ১৩ অক্টোবর মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২২ নম্বর ফ্লাইট থেকে সেলিম প্রধানকে নামিয়ে এনে আটক করে র্যাব। ঐ দিন রাত ১০টায় তার গুলশানের বাসায় অভিযান শুরু করে র্যাব। ১৮ ঘণ্টার সেই অভিযান শেষ হয় পর দিন ১ অক্টাৈবর বিকালে। তার বাসা থেকে বাংলাদেশি ৭ লাখ টাকা, ২৩ দেশের ৭৭ লাখ টাকা সমমূল্যের মুদ্রা, ৮ কোটি টাকার চেক, দুটি হরিণের চামড়া ও বেশ কয়েক বোতল বিদেশি মদ জব্দ করে র্যাব। এছাড়া হরিণের চামড়া রাখার অপরাধে ১ অক্টোবর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনায় ২ অক্টোবর গুলশান থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মানি লন্ডারিং আইনে র্যাব পৃথক দুটি মামলা করে।
