রিভিশন দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:০৬

বিজ্ঞান

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ,সিনিয়র শিক্ষক

দুলালপুর এস.এম.এন্ড কে. উচ্চ বিদ্যালয়, ব্রাহ্মণপাড়া কুমিল্লা  

জেএসসি পরীক্ষার্থীদের শেষ মুহূর্তের পরামর্শ:

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আমার শুভেচ্ছা নিও।“দৈনিক ইত্তেফাক” পত্রিকার অনুশীলন পাতার মাধ্যমে বছরের শুরু থেকেই তোমাদের সাথে আছি। তোমাদের পরীক্ষা কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হতে যাচ্ছে। জেএসসি পরীক্ষা তোমাদের জীবনে একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পরীক্ষা নিয়ে হয়তো তোমরা একটু বেশি টেনশনে আছো। পরীক্ষার সময় সব থেকে বড় যে কাজটি সেটি হলো, তুমি এতদিন যে বিষয়গুলো শিখেছ সেগুলো সুন্দর করে রিভিশন দিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে। আমি আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে তোমাদের সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেব, যেটি মেনে চললে আশাকরি তোমাদের পরীক্ষা ভালো হবে।

তোমরা জানো, বিজ্ঞান বিষয়ে মোট নম্বর (৭০+৩০)= ১০০-এর মধ্যে সৃজনশীল (রচনামূলক) অংশ ৭০ নম্বর থাকবে। এই ৭০ নম্বরের মধ্যে আগে ক বিভাগ, খ বিভাগ ও গ বিভাগ থেকে মোট ১০টি প্রশ্নের মধ্যে প্রত্যেক বিভাগ থেকে ২টি করে মোট ৬টির উত্তর দিতে হতো। কিন্তু আসছে  নভেম্বর অনুষ্ঠিত তোমাদের জেএসসি পরীক্ষায় কোনো বিভাগ বিভাজন থাকবে না। সম্পূর্ণ সিলেবাস হতে মোট ১১টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে যার মধ্য থেকে ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রত্যেক প্রশ্নের মান ১০।

আবার বহুনির্বাচনি প্রশ্নে তিন ধরনের মোট ৩০টি প্রশ্ন থাকবে। এর মধ্যে সাধারণ বহুনির্বাচণি প্রশ্ন ৩০টি (১৮টি জ্ঞানমূলক ও ৪টি অনুধাবন), বহুপদী সমাপ্তিসূচক প্রশ্ন ৪টি এবং অভিন্ন তথ্যভিত্তিক ৪টি প্রশ্ন থাকবে। জীববিজ্ঞান অংশ থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে উদ্ভিদে বংশবৃদ্ধি, পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র এবং ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ওপর, পদার্থবিজ্ঞান অংশ থেকে পৃথিবী ও মহাকর্ষ, পরমাণুর গঠন এবং আলো অধ্যায়টি খুব বেশি গুরুত্ব দিতে হবে এবং রসায়ন অংশ থেকে রাসায়ানিক বিক্রিয়া এবং অম্ল, ক্ষারক ও লবণ এই অধ্যায়গুলো খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে। কারণ এখান থেকে তোমাদের সৃজনশীল প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি। তবে এটাও ঠিক যে, সব অধ্যায় যদি ভালোভাবে না পড়ো তাহলে বহুনির্বাচনি প্রশ্নগুলোর উত্তর ঠিকমতো দিতে পারবে না।

পরীক্ষার সময় আরও একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, সেটা হলো শরীর। শরীর সুস্থ রেখে পড়াশোনা করতে হবে। কারণ এত কষ্ট করার পরও যদি শরীর খারাপ হয়ে যায় তাহলে তোমার পরীক্ষা ভালো হবে না। তাই শরীর ও মন সুস্থ রেখে লেখাপড়া করতে হবে। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে গাণিতিক টার্ম সম্পর্কিত কোনো প্রশ্নের উত্তর না দেয়াই ভালো। এতে জিপিএ ৫ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়। পরীক্ষার হলে যদি কোনো গাণিতিক টার্ম তোমার কাছে কঠিন লাগে, তাহলে সেগুলোর পরে উত্তর দেবে এবং যে প্রশ্নগুলো তুমি খুবই ভালো পারো সেগুলো আগে উত্তর দেবে। পরীক্ষায় কোনো প্রশ্নের উত্তর বাদ দিয়ে আসবে না। দেখবে কিছু লেখা যায় কিনা। দেখবে সেখানে কিছু নম্বর পেয়ে যাবে। তোমাদের সার্বিক মঙ্গল ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ কামনা করছি।