পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:৪৬

ভূঞাপুর সরকারি হাসপাতাল

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

পানি সরবরাহ ১০ দিন বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে হাসপাতালে আসা রোগীরা। যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন তারা পড়েছেন বেশি বেকায়দায়। পানির অভাবে হাসপাতালে দুর্গন্ধে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি অসুস্থ হয়ে পড়ছে চিকিত্সা নিতে আসা লোকজন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পানির অভাবে চিকিত্সা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন সেখানকার কর্মরত চিকিত্সকরা। হাসপাতালের বাইরের টিউবওয়েল থেকে বালতি করে পানি এনে জরুরি বিভাগ চালাতে হচ্ছে তাদের। যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন তারা পানির অভাবে টয়লেট ব্যবহার করতে পারছেন না। তারাও বাইরে থেকে বালতি ভরে পানি এনে টয়লেট ব্যবহার করছে। এতে টয়লেটের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সপ্তাহ পার হলেও হাসপাতালে পানি সরবরাহে উদ্যোগ নেয়নি জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ অক্টোবর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি সরবরাহের পাম্পটি বিকল হয়ে যায়। এতে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় পুরো হাসপাতাল জুড়ে। ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও বিকল পাম্পটি চালু করতে পারেনি জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তর। ফলে হাসপাতালে ভর্তি রোগী, আবাসিক ডাক্তার, নার্সসহ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে টয়লেট ও গোসলখানা ব্যবহার করতে পারছে না রোগীরা। ডায়রিয়া রোগীদের জামা-কাপড় অন্য জায়গা থেকে পরিষ্কার করে আনতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় ভর্তি গরীব রোগীরাও চিকিত্সা নিতে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল এখন প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে।

চিকিত্সা নিতে আসা উপজেলার নিকলা দড়িপাড়া গ্রামের কল্পনা বেগম বলেন, তিনদিন হয়ে গেল আমার মা টাইফয়েড জ্বরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। টয়লেটে পানি না থাকায় খুবই অসুবিধা হচ্ছে। গরীব মানুষ  অন্য কোনো ক্লিনিক বা হাসপাতালে চিকিত্সার ব্যয় বহন করা সম্ভব না। হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা অন্যত্র চিকিত্সার জন্য চলে যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ মান্দিয়া গ্রামের ফারুক মিয়া বলেন, শ্বাসকষ্টজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু পানি নেই হাসপাতালে। এতে দুর্গন্ধের কারণে অসুখ আরো বেড়ে গেছে।

হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা জানান, পানি সরবরাহ না থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। হাসপাতালজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে গেছে। রোগীদের চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জুনিয়র মেকানিক খোরশেদ আলম বলেন, হঠাত্ করে পাইপে আয়রন জমে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মহীউদ্দিন আহম্মেদ জানান, হঠাত্ করেই পাম্পটির ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বন্ধ আছে পানি সরবরাহ। জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে অবহিত করার পর সহকারী প্রকৌশলী পাম্প দেখে গেছেন। আশা করছি অতিদ্রুত পাম্পটি মেরামত করে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে।