স্পোর্টস রিপোর্টার
ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবরই রানের জোয়ার বয় লিটন কুমার দাসের ব্যাটে। এবারও ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে না। জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) খেলতে নেমে নিজের প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ডানহাতি এই ওপেনার। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে রংপুরের হয়ে ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন। রংপুরের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন নাঈম ইসলামও। তিনি পূর্ণ করেছেন ক্যারিয়ারের ২৭তম সেঞ্চুরি।
তাদের জোড়া সেঞ্চুরিতেই প্রথম স্তরের ম্যাচে ঢাকার বিশাল স্কোরের জবাব দিচ্ছে রংপুর। গতকাল ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে প্রথম ইনিংসে রংপুরের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৩৩৪ রান। নাঈম ১২২, তানবির হায়দার ৫২ রানে ব্যাট করছেন।
একই স্তরের ম্যাচে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে জয়ের সুবাস পাচ্ছে স্বাগতিকরা। আজ ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য খুলনার প্রয়োজন ১০৮ রান, হাতে আছে ৯ উইকেট। গতকাল নুরুল হাসান সোহানের অপরাজিত ৯৭ রানের পরও প্রথম ইনিংসে খুলনা অলআউট হয় ৩০৯ রানে। ৪৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭০ রানে গুটিয়ে যায় রাজশাহী। আল-আমিন, রাজ্জাকদের বোলিং তোপে সুবিধা করতে পারেনি রাজশাহী। জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে খুলনার টার্গেট দাঁড়ায় ১২৩ রান। গতকাল শেষ বিকালে ১ উইকেটে ১৫ রান তুলেছে দলটি। ইমরুল কায়েস ১১, সৌম্য শূন্য রানে অপরাজিত আছেন।
চট্টগ্রামে লিটন-নাঈমের সেঞ্চুরির পরও গতকাল তিন উইকেট হারিয়ে রংপুর যোগ করতে পেরেছে ২৬৩ রান। তৃতীয় উইকেটে ১৫৪ রান যোগ করেন লিটন-নাঈম। ১৮৯ বলে ১৪টি চারে ১২২ রান করে ফিরেন লিটন। নাসির (১), আরিফুল (১৭) সুবিধা করতে না পারলেও ষষ্ঠ উইকেটে তানবির হায়দারের সঙ্গে ৯৬ রানের জুটি গড়েন নাঈম। অবিচ্ছিন্ন থেকেই দিনের খেলা শেষ করেছেন তারা।
খুলনায় গতকাল শেষ চার উইকেটে ৮২ রান যোগ করে স্বাগতিকরা। যার মধ্যে ৬২ রানই করেছেন তিন রানের আক্ষেপ নিয়ে ফেরা নুরুল হাসান। সতীর্থরা আউট হয়ে গেলে সেঞ্চুরি বঞ্চিত হন তিনি। রাজশাহীর শফিউল ৩টি, তাইজুল-সানজামুল ২টি করে উইকেট নেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে আল-আমিন, রাজ্জাকের তোপে পড়ে রাজশাহী। ভারত সফরের টি-২০ দলে ডাক পাওয়া পেসার আল-আমিন ১৭ রানে চার উইকেট তুলে নেন। রাজ্জাক চারটি, মুস্তাফিজ দুটি উইকেট পান। রাজশাহীর নাজমুল শান্ত ৫৭, মুশফিক ৪৪, সানজামুল ২৫ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা-রংপুর বিভাগ
ঢাকা: ৫৫৬/৮ ডিক্লেয়ার
রংপুর: ১০৮ ওভারে ৩৩৪/৫ (লিটন দাস ১২২, নাঈম ইসলাম ১২৪*, তানবির হায়দার ৫২*, আরিফুল হক ১৭; সুমন খান ২/৭০, সালাউদ্দিন শাকিল ২/৭৭, নাজমুল অপু ১/১০৪)
রাজশাহী-খুলনা বিভাগ
রাজশাহী: ২৬১ ও ৬০ ওভারে ১৭০ (শান্ত ৫৭, মুশফিক ৪৪, সানজামুল ২৫, ফরহাদ হোসেন ১১, শফিউল ১০; আল-আমিন ৪/১৭, রাজ্জাক ৪/৬২, মুস্তাফিজ ২/১৮)
খুলনা: ১০৮.৩ ওভারে ৩০৯ (নুরুল হাসান ৯৭*, রাজ্জাক ১২, মুস্তাফিজ ৯; শফিউল ৩/৫৫, সানজামুল ২/৬৫, তাইজুল ২/৯৭, মোহর শেখ ১/৩৮, ফরহাদ রেজা ১/৪৪)
ও ৩ ওভারে ১৫/১ (বিজয় ৪, ইমরুল ১১*, সৌম্য ০*; শফিউল ১/১১)
