স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজিসহ সব ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেখানে এগুলো চলবে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) হলরুমে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই অভিযান কন্টিনিউ (অব্যাহত) করতেই হবে। আমি শুদ্ধি অভিযান বলব না, আমি বলব দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান। দুর্নীতিবাজ, দখলবাজেরা দুর্নীতি, দখলের চিন্তা যতদিন করবে, ততদিন এই অভিযান চলবে।’
ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজির পর কোন খাতে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সেক্টরকে আমরা লক্ষ্য করছি না। যেখানে দেখছি অনিয়ম হচ্ছে, আইন অমান্য হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে, সেই জায়গায়ই আমরা দেখছি। আমরা কোনো এলাকাকে টার্গেট করছি না।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আপনারা দেখছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। আমরা অবশ্যই টেন্ডার ও দুর্নীতিবাজদের কন্ট্রোলে নিয়ে আসব। প্রধানমন্ত্রী গত মেয়াদে বলেছিলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দূর করবেন। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসকে তিনি দূর করে দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী জিরো টলারেন্সের নীতি ঘোষণা করেছেন। সেই নীতিতে সরকার রয়েছে।’ মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুয়েটের ছাত্র আবরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার হত্যার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। ঘটনার পর যারা দোষী ছিল তাদের ধরা হয়েছে। তারাও মেধাবী শিক্ষার্থী। কিন্তু তাদের মস্তিষ্ক এভাবে বিকৃত হবে এটা আমরা কখনো ভাবিনি। অতিদ্রুত আবরার হত্যার চার্জশিট জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি নির্ভুল চার্জশিট তৈরির কাজ চলছে।’
বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিতর্কের বিষয়ের পক্ষে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিপক্ষে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। এতে পক্ষে থাকা বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয় জয়ী হয়।
