গা ছমছমে রহস্যময় গুহা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:২০

মো. নিজাম উদ্দিন লাভলু, রামগড়

 

গা ছমছমে নিস্তব্দ অন্ধকার গুহা। শীতল জলধারার পাথুরে এ গুহা পাড়ি দেওয়া ভয় আর রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চারই বটে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩ হাজার ফুট উঁচু আলুটিলা পাহাড়ে এই রহস্যময় প্রাকৃতিক সুড়ঙ্গ বা গুহার অবস্থান। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রধান সড়কে শহরের প্রবেশপথেই আলুটিলা পর্যটন স্পট। গুহায় ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য দুটি সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ি দুটি আঁকবাঁকা, তবে বেশ মজবুত। উঁচু পাহাড়ের চূড়া থেকে অনেকখানি ইট বিছানো ঢালু রাস্তা হেঁটে এগিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামার পরই দেখা মিলবে এ রহস্যময় গুহার। পাহাড়ের চূড়া থেকে গুহায় ঢোকার মুখে রয়েছে বিশ্রাম শেড। পাহাড় থেকে নেমে বা গুহা থেকে উঠে এখানে বিশ্রাম নিলে মন্দ হবে না। কোমল পানীয়, কলা, বিস্কুটসহ অনেককিছু কিনতে পাওয়া যায় বিশ্রাম শেডে। এক সময় আলুটিলা বটমূলের এক চিমটে মাটি মুখে দিয়ে গুহায় ঢোকার একটা কুসংস্কার চালু ছিল। বলা হতো, এ মাটি মুখে না দিয়ে গুহায় ঢুকলে আর ফিরে আসা যাবে না।

শিলা পাথরের পাহাড় ভেদ করে বিশালাতনের এ সুড়ঙ্গ বা গুহাটি প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২৮২ ফুট দীর্ঘ এ গুহার একপ্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে অপরপ্রান্ত দিয়ে বের হওয়া যায়। এ সুড়ঙ্গের ভেতরে কয়েকটি শাখা গুহা আছে। তবে এগুলো আবদ্ধ। সুড়ঙ্গ পথটির কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। অধিকাংশ পথ পাড়ি দিতে হয় কুঁজো হয়ে। মশাল, টর্চ কিংবা সার্চ লাইটের আলোয় পাড়ি দিতে হয় এ গুহা। গুহার প্রবেশমুখের ব্যস ১৮ ফুটের মতো। সুরঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করা মাত্রই হিমেল হাওয়ায় শরীর-মন জুড়িয়ে যায়। গুহার পাথুরে দেয়াল মসৃণ হওয়ায় পা পিছলে দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই সাবধানে পা ফেলতে হবে। হাতে একটি শক্ত লাঠি থাকলে পথ চলতে সুবিধা হবে। এ সুড়ঙ্গ অতিক্রম করতে সময় লাগবে ১৫ মিনিটের মতো। তবে এ অভিযান অন্যরকম রোমাঞ্চকরও। তবে দুর্বল চিত্তের কেউ এ সুড়ঙ্গে গমন না করাই উচিত। ত্রিপুরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা গুহাটিকে তাদের ভাষায় ‘মাতাই হাকর,’ অর্থাত্ দেবতার গুহা নামে আখ্যায়িত করেন। তাদের বিশ্বাস, শিলা পাথরের বিশাল পাহাড়ের গায়ে এ সুড়ঙ্গ বা গুহাটি কোনো দেবতার আবাসস্থল। এ বিশ্বাস থেকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ এ গুহায় মাঝেমধ্যে পূজোও দেয়। মানুষের আনাগোনার আগে বাঁদুড়ের আবাসস্থল ছিল গুহাটি। বিশেষ করে ৯০-এর দশকের পর এ সুড়ঙ্গে পর্যটকদের পদচারণা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যে গুহাটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে সুড়ঙ্গে গমন ও বের হওয়ার জন্য রাস্তা ও সিঁড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসেন সৌন্দর্যপিপাসুরা।

ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা দেশের যেকোনো স্থান থেকে সহজেই আসা যায় আলুটিলায়। এখানে কাউন্টারে জনপ্রতি ২০ টাকা প্রবেশ ফি দিয়ে ঢুকতে হবে। গুহায় গমনের জন্য কাউন্টারেই কিনতে পাওয়া যাবে তৈরি মশাল ও দিয়াশলাই।