নাসিব হক
পর্দায় সুপারহিরো মানেই অসামান্য শক্তিধর এবং অসহায়ের ত্রাণকর্তা। কিন্তু এই অতিমানবদের মানুষের কাতারে নামিয়ে আনলেন নির্মাতা জশ হেডন। আয়রন ম্যান, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, থর, হাল্ক, ব্ল্যাক উইডো আর হক আইদের এই মানবিক দিকই আর দশটা সুপারহিরো মুভি থেকে পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্রের কাতারে উত্তরণ ঘটিয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এইজ অব আল্ট্রন’।
হলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবির তালিকায় অন্যতম ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাভেঞ্জার্স’। ২২ কোটি ডলারে নির্মিত ছবিটি আয় করেছে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি। এর দ্বিতীয় কিস্তি ‘অ্যাভেঞ্জার্স:এজ অব আল্ট্রন’ মুক্তি পায় ২০১৫ সালের মে মাসে। এই সিনেমার কিছু অংশ শুটিং হয়েছিল বাংলাদেশে।
ইউটিউবে যখন এই সিনেমার ট্রেলার প্রকাশ হয় তখন থেকেই গুঞ্জন উঠেছিল। পরে ছবি মুক্তির পর তার সত্যতা মেলে। চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির শিপইয়ার্ডে অ্যাভেঞ্জার্স ছবির শুটিং হয়। সে সময় গোপনীয়তা রক্ষার জন্য অন্য এক নামে মার্ভেল এন্টারটেইনমেন্ট ছবির শুটিং করে যায় বাংলাদেশে।
শুটিং ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন এমন একজনের কাছ থেকে জানা যায়, পুরো বিষয়টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৩০ থেকে ৩৫ জন বাংলাদেশি। সেসময়ে বাংলাদেশিদের পেশাদারিত্বে দারুণ মুগ্ধ হন মার্ভেল এবং অন্যান্য প্রযোজকেরা। বাংলাদেশে এর আগে এবং পরে আন্তর্জাতিক অনেক সিনেমার শুটিং হয়েছে, তবে হলিউডের এত বড় বাজেটের কোনো চলচ্চিত্রের এত ব্যাপক পরিসরের শুটিংয়ের ঘটনা সেটাই ছিল প্রথম। এখান থেকে খুবই ভালোমানের কাজ পাওয়ায়, ভবিষ্যতে আরো বেশকিছু হলিউডি সিনেমার কাজ বাংলাদেশে হতে পারে বলেও জানান তিনি।
আইএমডিবিতে এই ছবির শুটিংস্পটগুলোর তালিকায় সর্বপ্রথমেই আছে বাংলাদেশের নাম। এছাড়া আরো ৪টি দেশের ১৯টি লোকেশনে শুট করা হয়েছে ছবিটির বিভিন্ন দৃশ্য। বাকি দেশগুলো হলো দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইতালি।
অ্যাভেঞ্জার্স:এজ অব আল্ট্রন চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা ও পরিচালনা করেছেন জশ হেডন। ছবিতে অভিনয় করেছেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস ইভানস, ক্রিস হেমসওর্থ, স্কারলেট জোহানসন, স্যামুয়েল এল জ্যাকসন, মার্ক র্যাফেলো, জেরেমি রেনার, এলিজাবেথ অলসন, কোবি স্মুলডার্স ও অ্যারন টেইলর জনসন।
