খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
এনামুল হক, খুলনা অফিস
উদ্বোধনের পর দীর্ঘ দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ভবনটি চালু করা সম্ভব হয়নি। পর্যাপ্ত মেডিক্যাল সরঞ্জাম ও জনবলের অভাবে দৃষ্টিনন্দন এই ভবনটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইসিইউ বিভাগটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে খুমেক হাসপাতালে মাত্র চারটি বেড দিয়ে আইসিইউ বিভাগের কাজ চলছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৩ মার্চ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবনের কাজ সম্পন্নের আগেই উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এরপর দীর্ঘ দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে চালু হচ্ছে না অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি। এ ব্যাপারে একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েও কোনো সুফল মেলেনি। খুমেক হাসপাতালে প্রতিদিন ১২০০র বেশি রোগী চিকিত্সা নিয়ে থাকেন। বিশাল এই রোগীদের জন্য বর্তমানে মাত্র চারটি বেড দিয়ে চলছে খুমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ।
সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে খুমেক হাসপাতালের পূর্বপাশে ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের মাঝখানে নির্মাণ করা হয় খুমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ। দুই তলা এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় চারটি কেবিন, ১০টি আইসিইউ, ১৬টি পোস্ট অপারেটিভ বেড নিয়ে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা রয়েছে। এছাড়া নিচতলায় রয়েছে অতি জরুরি সার্জারি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য ইমার্জেন্সি সার্জারি ইউনিট। গত বছরের ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সফরকালে উদ্বোধন করা হয় খুমেকের নতুন আইসিইউ ভবন। কাজ সম্পন্ন করে এক মাসের বেশি সময় আগে গণপূর্ত বিভাগের কাছ থেকে ভবন বুঝে নেয় খুমেক কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে চালু হচ্ছে না নতুন এই ভবনটি। ১৪৪ জনের জনবল চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর পর এক বছর পার হয়ে গেলেও আজও পূর্ণাঙ্গ জনবল দেওয়া হয়নি। এছাড়া চিকিত্সা সহায়ক সামগ্রীর চাহিদা পাঠিয়ে বার বার যোগাযোগ করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও আইসিইিউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফরিদউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইসিইউ ভবনটি ভালোভাবে চালু করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। কিন্তু মন্ত্রণালয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতি চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। তবে খুলনা মেডিক্যাল কলেজের জন্য নিয়মিত কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। সেখানে কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ডিমান্ড দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পাওয়া গেলে বর্তমানে যে জনবল আছে, তা দিয়েই আইসিইউ বিভাগ চালু করা সম্ভব হবে ।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনাসহ আশপাশের জেলায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে সবার আগে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত্ এই হাসপাতালটিতে আইসিইউ সেবা থাকবে না তা কল্পনাও করা যায় না। অতিদ্রুত যন্ত্রপাতি ও জনবল সমন্বয়ের মাধ্যমে আইসিইউ বিভাগ চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
