স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুরের তারাগঞ্জের উত্তর রহিমাপুর নয়াহাট মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা হলেও ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। ফলে যে কোনো মুহূর্তে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
উত্তর রহিমাপুর নয়াহাট মুক্তিযোদ্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৫৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ১৯৯৩ সালের ১৩ অক্টোবর ভবনটি নির্মিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের শুরুর দিকে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সেখানে ক্লাস নিতে নিষেধ করে এলজিইডি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের দেওয়াল ও ছাদের বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। নির্মাণাধীন দেওয়াল ও ছাদে একাধিক ফাটলের চিহ্ন স্পষ্ট। কয়েক দিন আগের বৃষ্টির পানি ছাদ চুঁইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পড়েছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কোমলমতি শিশুদের চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী নাদিরা জানায়, তার সকালে ক্লাস হয়। বাধ্য হয়ে সে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌসুমি আক্তার জানান, ২০১৭ সালের শেষ দিকে তিনি এই বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। এর আগে মূল বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে এলজিইডি। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই ঝুঁকি নিয়ে ঐ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং এলজিইডিকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরেও বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। এছাড়া এর মধ্যে দুবার সংস্কারের জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু ভবনটি সংস্কারের মতো অবস্থায় না থাকায় টাকা ফেরত গেছে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ভবনটি সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় ছয় মাস আগে তার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তালিকায় তখন তিনি এ বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করেছেন।
তারাগঞ্জ এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জামাল আহমেদ হায়দার বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে নিষেধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঢাকা এলজিইডি অফিসে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
