পাঁচ বছরে ই-গভর্ন্যান্স সূচকে সেরা ৫০-এ থাকবে বাংলাদেশ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৫

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি ও উন্নতি ঘটিয়ে বাংলাদেশ আগামী পাঁচ বছরে জাতিসংঘের ই-গভর্ন্যান্স উন্নয়ন সূচকে সেরা ৫০টি দেশের তালিকায় থাকবে। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগ আয়োজিত ই-গভর্নমেন্ট মাস্টারপ্ল্যান রিপোর্ট প্রকাশ এবং এটুআইয়ের তিনটি নাগরিক সেবা উদ্বোধনকালে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। জয় আরো বলেন, ‘ডিজিটাল পদ্ধতিতে নাগরিক সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার। এরই মধ্যে সেবা ডিজিটালাইজেশনে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন যেমন বাস্তবতা, তেমনি আগামীতে এটাই বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।’

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমরা ডিজিটাল গভর্ন্যান্স ইনডেক্সে ৪০-৫০ ধাপ এগিয়েছি। আগামী পাঁচ বছরে আমরা কেন আরো ৫০ ধাপ       এগোব না? ২০১৮ সালের জাতিসংঘের ই-গভর্ন্যান্স সার্ভে প্রতিবেদনে, ই-গভর্ন্যান্সে ডেভেলপমেন্ট সূচকে ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে বংলাদেশের অবস্থান ১১৫তম। এই সূচকে সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে ডেনমার্ক ও সর্বনিম্ন অবস্থানে সোমালিয়া। দুই বছর পর পর এই জরিপ চালায় জাতিসংঘ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ১০ বছর পরে ই-গভর্নমেন্ট মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছে আইসিটি বিভাগ।’ জয় এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তখন কোনো কিছুই ডিজিটালাইজড হয়নি। আইসিটির ফান্ডামেন্টাল ডিজিটাল সার্ভিস, ডাটাবেইজ, স্থাপনা কিছুই হয়নি। ১০ বছর আগে করলে তা অফলদায়ী চর্চাই হতো।’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিশ্বের আধুনিক আইটি সিস্টেম রয়েছে। ১০ বছর আগে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যাত্রা শুরুকালে অনেকেই বুঝতে পারেনি ডিজিটাল বাংলাদেশ কী? তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের আওতায় সরকার সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক কেব্ল দিয়ে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। প্রায় সব শহরেই রয়েছে ফোরজি সেবা।’ সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘ডিজিটাল মিউনিসিপালিটি সার্ভিস পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ নাগরিককে সেবা দেওয়া হবে। ২০২১ সালের মধ্যে ৩০০ মিউনিসিপালিটিতে এই সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় তিনটি ওয়ান স্টপ নাগরিক সেবা—একসেবা, একপে ও একশপের উদ্বোধন করেন। এসব সার্ভিস থেকে জনগণ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সেবা, ইউটিলিটি বিল প্রদান ও ই-কর্মাস সুবিধা ভোগ করতে পারবে। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু কাং-ইল উপস্থিত ছিলেন।

‘একসেবায়’ এখন পর্যন্ত ১৬২টি সরকারি সেবা রয়েছে। এই সেবা পেতে নাগরিকদের ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বা ভিন্ন ভিন্ন ওয়েবসাইটেও যেতে হবে না। এক জায়গা থেকেই এসব সেবা পাওয়া যাবে। পর্যায়ক্রমে এতে আরো ৩ হাজার সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ‘একপে’র মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন ইউটিলিটি সেবার বিল ও অন্যান্য ফি এক জায়গা থেকেই দেওয়া যাবে। আর ‘একশপ’-এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো জায়গা থেকে উত্পাদক বা উদ্যোক্তারা ই-কমার্সে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। এক্সেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) উদ্যোগে ‘ডিজিটাল মিউনিসিপালিটি সার্ভিসেস সিস্টেম’ পাইলট প্রকল্পের অধীন পরীক্ষামূলকভাবে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন ও ৯টি পৌরসভা ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, নাটোর, ঝিনাইদহ, টুঙ্গিপাড়া, পীরগঞ্জ, সিংড়া, তারাব ও রামগতিতে ‘ডিজিটাল অটোমেশন পদ্ধতিতে নাগরিক সেবা’ প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় এছাড়াও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ আয়োজিত ই-গভর্নমেন্ট মাস্টারপ্ল্যান রিপোর্টের মোড়ক উন্মোচন, এটুআইয়ের তিনটি নাগরিক সেবা উদ্বোধন এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণ করেন। আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ‘দুই বছরের মধ্যে আইসিটি বিভাগ ৪০ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করবে। তাদের জন্য ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে। স্কুল পর্যায়ে শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ করতে ২০২১ সালের মধ্যে ৬৪টি শেখ কামাল আইটি ইউকিউবেশন সেন্টার স্থাপন করবে আইসিটি বিভাগ।