চট্টগ্রামে অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজারে দিশেহারা ক্রেতারা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৪

অস্থির ভোগ্যপণ্যের বাজারে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। পাইকারি ও খুচরা বাজার কারো নিয়ন্ত্রণে নেই। প্রতিটি পণ্য নিয়ে গড়ে উঠেছে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। মাঝেমধ্যে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও কোনো সুফল মিলছে না। তরিতরকারি, পেঁয়াজ, চিনি, সয়াবিন, পামঅয়েল, ছোলা, মসুর ডাল, ডিমসহ প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে হলে সরকারিভাবে টিসিবিকে সক্রিয় করার বিকল্প নেই বলে মনে করেন সচেতন মানুষ।

চালের বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। চালের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

এখন রমজান মাস না হলেও ছোলা, চিনি ও সয়াবিনের দাম বেড়েই চলেছে। পাইকারি বাজারে প্রতি সপ্তাহে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ছোলা প্রতি মণ ২১৫০ থেকে ২২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে। এখন নতুন ছোলা আমদানি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন ছোলা দেশে এলে দাম আরো বাড়বে। অথচ বর্তমানে যাদের কাছে আগে কেনা ছোলা মজুত রয়েছে, তারা ধাপে ধাপে দাম বাড়াচ্ছেন বলে একাধিক ডিও ব্যবসায়ী জানান। মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১৫৩০ টাকায়। তবে কানাডা, নেপাল ও অস্ট্রেলিয়ার মসুর ডালের মানভেদে দামেও পার্থক্য রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চিনির বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। চিনির যত মিলমালিক ও পরিবেশক রয়েছেন, তারা সিন্ডিকেট করে চিনির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। পাইকারি বাজারে চিনি প্রতি মণ ১৮৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, মিলমালিকেরা যাদের পরিবেশক নিয়োগ করেছেন, তারাই আবার তাদের পছন্দের গুটিকয়েক লোককে দিয়ে বাজারজাত করছেন। ফলে মিল থেকে পাইকারি বাজার পর্যন্ত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চিনির বাজার। খুচরা বাজারে চিনি প্রতি কেজি ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সয়াবিন ও পামঅয়েলের দামও বেড়েছে। খোলা ও বোতলজাত দুই ক্যাটাগরির সয়াবিনের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে সয়াবিন প্রতি মণ ২৮৬০ টাকায় এবং পামঅয়েল ২১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন ও পামঅয়েল মণে ৫০-৬০ টাকা করে বেড়েছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। গত কয়েক দিন ধরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন আড়তে অভিযান চালিয়ে ক্রয় ও বিক্রমূল্যের মধ্যে ব্যাপক অসংগতি দেখতে পাচ্ছে। এতে জরিমানাও করা হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, অভিযানকে ব্যবসায়ীরা তোয়াক্কা করছেন না। অভিযানের পরও পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমছে না। গতকাল রবিবার পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ  প্রতি কেজি ৯০ টাকা এবং মিয়ানমারের  পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী নেতা সোলায়মান বাদশা ইত্তেফাককে বলেন, ভারত থেকে তিন পয়েন্টে পেঁয়াজ আসে। প্রতি পয়েন্টে ৭০ গাড়ি করে পেঁয়াজ এলে দৈনিক ৫ হাজার ৬৭০ টন পেঁয়াজ আসে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাজারদর হিসাব করে বছরে দুই-তিনবার কর নির্ধারণ করে। আর আমাদের দেশে বাজেটের সময় একবার কর নির্ধারণ করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে আমাদের দাম বাড়াতে হয়। বাজারে পণ্যের মূল্য স্থতিশীল রাখতে হলে সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন অভিযানের কারণে ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আনা কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে বাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

এদিকে ডিমের বাজারও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। উত্পাদন কমে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে হঠাত্ করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দেয় তারা। পোলট্রি খামারি সূত্র জানায়, একটি ডিম উত্পাদনে খরচ পড়ে ৪ টাকা ৫০ পয়সা। যদি খামার বড়ো হয়, তাহলে উত্পাদন খরচ আরো কম পড়ে। বর্তমানে চট্টগ্রামে পাইকারি বাজারে ১০০ ডিম ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১০ টাকায়। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় ১৩ জন ডিমের আড়তদার ব্যবসায়ী বৃহত্তম চট্টগ্রামের ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। তরকারির বাজার ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ৩৫-৪০ টাকায় এক কেজি চাল পাওয়া যায়। কিন্তু ৬০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত শীতকালীন বিভিন্ন সবজি বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে ফুলকপি কেজি ২৫-৩০ টাকা, বাঁধাকপি কেজি ১৪-১৫ টাকা, মুলা ২৫ টাকা, তিতকরলা ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু খুচরা বাজারে ফুলকপির কেজি ৭০-৮০ টাকা, বাঁধাকপি ৩৫-৪০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, তিতকরলা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজিও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।