শিকলবাহা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধের ‘ষড়যন্ত্র’

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ২২:৩৬

চট্টগ্রামের শিকলবাহায় নির্মিত প্রথম ৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্রটি নিয়ে মহলবিশেষ ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, গ্যাস সরবরাহ দেওয়া গেলে এখনো ৪২ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করা সম্ভব। এলএনজি আসার পর চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ বেড়েছে। তারপরও গ্যাস সরবরাহ না দিয়ে কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে ৬০ মেগাওয়াটের চেয়ে জরাজীর্ণ বিদ্যুেকন্দ্র সরকার ভর্তুকি দিয়ে চালু রেখেছে।  প্রায় ৩৫ বছরের পুরোনো বিদ্যুেকন্দ্রটির যন্ত্রাংশ এখনো অনেক কার্যকর। একবার চালু করলে বন্ধ করতে হয় না। শিকলবাহায় অবস্থিত ২২৫ ও ১৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হলেও ৬০ মেগাওয়াটে বন্ধ রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুেকন্দ্র কর্তৃপক্ষ ৬০ মেগাওয়াটের জন্য গ্যাসের চাহিদা দিচ্ছে না।

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ ৬০ মেগাওয়াটের জন্য চাহিদা দিচ্ছে না। অন্য দুটি বিদ্যুেকন্দ্রের চাহিদা অনুসারে গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, সরকার বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্রে উত্পাদিত বিদ্যুত্ চড়া দামে কিনছে। অথচ গ্যাস দিয়ে উত্পাদিত বিদ্যুত্ প্রতি ইউনিটের উত্পাদন খরছ পড়ছে ১ টাকা।

সূত্র জানায়, ১৯৮৪ সালে ৬০ মেগাওয়াটের গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। বিদ্যুেকন্দ্রে স্থাপিত প্রযুক্তি উন্নত মানসম্পন্ন হওয়ায় অনেক দিন সার্ভিস পাওয়া গেছে। উত্পাদন স্বাভাবিক রাখার জন্য গত ৩৫ বছরে চারবার মেরামত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, মেরামতকাজে নিম্নমানের প্রযুক্তি স্থাপনের কারণে আশানুরূপ সফলতা মেলেনি। তখন মেরামতকাজ নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।

দীর্ঘদিন উত্পাদন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ছে। উত্পাদন বন্ধ থাকায় রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্ব পাচ্ছে না। একটি বিদ্যুেকন্দ্রে যে পরিমাণ উপকরণ থাকা প্রয়োজন, তার সবই এখানে রয়েছে। শিকলবাহা বিদ্যুেকন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ভুবন বিজয় দত্ত ইত্তেফাককে বলেন, ‘তিন কারণে ৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। উত্পাদনক্ষমতা হ্রাস, জনবলের সংকট ও গ্যাস মিলছে না। পিক আওয়ারে চালানো গেলে লাভবান হওয়া যেত। কিন্তু এই সময়ে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুেকন্দ্রের মালামাল নিলামে বিক্রি করতে হবে।’

এই বিদ্যুেকন্দ্রে ৩৫০ জন কর্মরত ছিলেন। তাদের পার্শ্ববর্তী নির্মিত ২২৫ ও ১৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুেকন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।