প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৯, ১৮:১২

প্রত্নতত্ত্ব বিষয়টি যেমন উদ্দীপক তেমনি পরিপূরক। ইতিহাসের পরতে বোনা

প্রত্নতত্ত্বে বিস্তার বহুমুখী। প্রতি বছর অক্টোবরের তৃতীয় শনিবার পালন করা হয় বিশ্ব প্রত্নতত্ত্ব

দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সঠিকভাবে জানার জন্য প্রত্নতত্ত্ব চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশে শুধু জাহাঙ্গীরনগর ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রত্নতত্ত্ব স্বতন্ত্র ডিসিপ্লিন

হিসেবে পড়ানো হয়। প্রত্নতত্ত্ব দিবস উপলক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের

কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভাবনা জানাচ্ছেন— জান্নাতুল ফেরদৌস

নাজমুল হাসান

প্রত্নতত্ত্ব ১ম ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

বিষয় হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। বাংলাদেশে প্রত্নতাত্ত্বিক চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে এবং সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রত্নতত্ত্ব চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইতিমধ্যে যা মুন্সীগঞ্জ, ওয়ারীবটেশ্বর ও সমতট অঞ্চলে খনন ও অনুসন্ধানে পরিচিতি লাভ করে। নিজেদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে গবেষণা, জনসম্পৃক্ততা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রত্নতত্ত্ব চর্চা একান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। তাই সরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে ইতিহাসের পাশাপাশি প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থীদের সুযোগ প্রদান পরিপূর্ণতা নিয়ে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

 

ওবায়দুর রহমান

প্রত্নতত্ত্ব ২য় ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

ডিসিপ্লিন হিসেবে প্রত্যেকেই তার নিজ বিভাগকে অনেক বেশি ভালোবাসে। ভর্তিযুদ্ধ আর বিজ্ঞান মনস্কতা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগে ভর্তি হয়ে আমি আসলে অন্যরকমভাবেই ভালোবাসি প্রত্নতত্ত্বকে। বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব চর্চার অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও এর রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। যেমন—পারিবেশিক প্রত্নতত্ত্ব চর্চা ও বিজ্ঞানাগার সংশ্লিষ্টতা বাড়ানো। সরকারি ও বেসরকারি খাতে অর্থায়ন পেলে বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণা করলে প্রত্নতত্ত্ব বাংলাদেশের ভূগোল, জীববিজ্ঞান, স্থাপত্য ও ইতিহাসে অনবদ্য অবদান রাখবে। মাঠকর্মে যখনই যাই মাথায় একটা চিন্তা ঘুরপাক খায়, এখানে কত কাজ। একদিন প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় আমাদের সময়েরই কোনো গবেষক  তুলে আনবে নতুন নতুন অধিক প্রায়োগিক তত্ত্ব। আজ সারা বিশ্বে পরিবেশ নিয়ে বিশ্বনেতৃত্ব মহা চিন্তিত, চলছে নানান আন্দোলন। এই সমস্যা সমাধানে বিশাল অবদান রাখতে পারে প্রত্নতত্ত্ব। কেননা অতীত পরিবেশ নিয়েই বিশেষভাবে গবেষণা করে  প্রত্নতত্ত্ব, সেক্ষেত্রে পরিবেশ দূষণের হুমকি প্রতিরোধের সমাধান ও প্রাচীনকালের মতো নির্মল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবদান রাখতেই পারে প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

 

শামস্ আরা ফেরদাউস

প্রত্নতত্ত্ব ৩য় ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

বর্তমান সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবসভ্যতা কীভাবে বিকশিত হলো তা জানা আমাদের সবার কর্তব্য, প্রত্নতত্ত্ব সেই রহস্য উন্মোচন করে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্বের শিক্ষার্থী হিসেবে উপলব্ধি করেছি বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব চর্চায় হাজারো ঘাটতি রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার ক্ষেত্র থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে প্রত্নতত্ত্ব  চর্চা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলার গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থলগুলো ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যমান প্রত্নতাত্ত্বিক আইনসমূহের সীমাবদ্ধতা এবং যথাযথ প্রয়োগের অভাবও উপলব্ধি করেছি। যা সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সম্মিলিত   প্রচেষ্টার মাধ্যমেই নিরসন সম্ভব। 

 

ফাহমিদা বিনতে করিম

প্রত্নতত্ত্ব ৪র্থ ব্যাচ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

 

একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অনুসন্ধান, গবেষণা এবং যথাযথ সংরক্ষণের মাধ্যমে জাতিকে ইতিহাস সচেতন করা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ধারণে উদ্বুদ্ধ করাই প্রত্নতত্ত্বের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন একটি জাতির ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো যথাযথ সংরক্ষণ করে গবেষণার মাধ্যমে বাংলার হাজার বছরের ইতিহাসের বহু অজানা তথ্য উদ্ঘাটন করা যেতে পারে। তার জন্য দরকার প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশে প্রত্নতত্ত্ব চর্চা এখনো অবহেলিত। জনসচেতনতার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। কেবল প্রত্নতত্ত্বচর্চাই পারে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে। উন্নত দেশগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোকে কাজে লাগিয়ে পর্যটনশিল্পে প্রতি বছর প্রচুর অর্থ আয় করছে। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো পর্যটন শিল্পের দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুনজর এবং প্রত্নতত্ত্ব গবেষণার জন্য উপযুক্ত বরাদ্দ পেলে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করতে পারে।