২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে
স্নাতক প্রথম বর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের পরীক্ষা অক্টোবরের ২৭ তারিখ থেকে শুরু হয়ে চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। এই বছর ৪ হাজার ৯২৬ আসনের বিপরীতে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন করেছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৭১ জন। চবিতে এর আগে কখনো এত পরিমাণ আবেদন জমা পড়েনি। ফলে এক আসনের বিপরীতে থাকছে ৩৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বী! চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুদের
জন্য পরামর্শ দিয়েছেন চবির বর্তমান শিক্ষার্থীরা। গ্রন্থনা করেছেন— রুমান হাফিজ
এবার স্বপ্ন পূরণের পালা
—মিশিপরু মারমা
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ
চবিয়ান হতে হলে প্রয়োজন পরিশ্রম, ধৈর্য, অধ্যবসায়। কখন দরজা নেড়ে ঘটা করে জানান দেবে ‘পরীক্ষা আগামীকাল’ টেরও পাওয়া যাবে না। এটি শুধু পরীক্ষাই নয়; উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য, উচ্চ শিখরে আরোহণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলা যেতে পারে। দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপায়িত করতে হলে চরম এই প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হতে হবে। আগের পড়াগুলো ঝালিয়ে নিতে হবে যে কটা দিন বাকি আছে। উল্লেখ্য, এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এই ইউনিটের প্রতি যাদের ফোকাস বেশি তারা বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞানের পাশাপাশি মানসিক বিশ্লেষণ দক্ষতা বিষয়ের ওপর জোর দিতে হবে।
চবিতে ফেইল করা কঠিন!
—আরজু আকতার
ইতিহাস বিভাগ
বিশ্ববিদ্যালয় অলস মেধাবীদের জায়গা না, বিশ্ববিদ্যালয় কঠোর অধ্যবসায়ীদের জায়গা। আবেদনকারী বেশি দেখে ঘাবড়ে গেলে চলবে না, তোমার নিজের জায়গা থেকে নিজের ১০০% দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই সফলতা এসে তোমার কাছে ধরা দেবে। ইতিমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তোমরা যারা চবিতে পরীক্ষা দেবে তোমাদেরকে বলতে চাই—চবিতে ফেইল করাটা তুলনামূলকভাবে কঠিন। ঢাবিতে যেমন বিষয়ভিত্তিক পাশ এবং নেগেটিভ মার্কিংও করা হয় বিষয়ভিত্তিক কিন্তু চবিতে বিষয়ভিত্তিক পাশ থাকলেও নেগেটিভ মার্কিং করা টোটাল মার্কস থেকে। যার কারণে ঢাবিতে বিষয়ভিত্তিক ফেইল করার আশঙ্কা যে পরিমাণ, চবিতে তেমনটা নেই। এই বিষয়টা মাথায় রাখবে, এটা অনেকেই জানে না।
প্রশ্নব্যাংক সমাধানের বিকল্প নেই
—সাফায়াত সিদ্দিকী
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের তথা ‘ক’ ইউনিটের পরীক্ষা ২৯ অক্টোবর। টেকনোলজি নির্ভর বর্তমান সময়ে ‘কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং’ এই দুইটি বিষয়ে পড়াশোনা করার আগ্রহ থাকলে প্রয়োজন কঠোর অধ্যবসায়ের। বিজ্ঞান বিভাগের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা ও ইংরেজি (আবশ্যিক) এর পাশাপাশি পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান এই ৪টি বিষয়ের যে কোনো ৩টি উত্তর করতে হয়। বিভাগ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘সিএসই’ ও ‘ট্রিপল ই’তে কোনো নির্দিষ্ট চাহিদা নেই। ফলে গণিত/পদার্থবিজ্ঞান কেউ উত্তর না করলেও এই বিভাগগুলোতে ভর্তি হতে পারবে। অবশ্যই উচ্চ মাধ্যমিকে গণিতে ও পদার্থবিজ্ঞানে জিপিএ ৩.৫০ আবশ্যক|
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কৌশলী হতে হবে
—ইফতেখার সৈকত
মার্কেটিং বিভাগ
চবিতে সি ইউনিটে যারা পরীক্ষা দিবে তাদের সাধারণ তিন ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় নীতি ও প্রয়োগ (ব্যবস্থাপনা) ও ইংরেজি। বিগত বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলেই প্রশ্নের ধারণা পাওয়া যায়। ব্যবসায় নীতি অংশে থাকে ৩৫টি প্রশ্ন। যার সবগুলোই থিওরিটিক্যাল। হিসাববিজ্ঞানেও ৩৫টি। যেখানে কিছু গণিত ও কিছু থিওরির মিশ্রণ থাকে। আর ইংরেজি তো আছেই। পরীক্ষার হলে প্রথমে হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবসায় নীতির অংশ দাগানো উচিত। এগুলো অল্প সময়ে শেষ করা যায়। আর যেহেতু এই দুই বিষয়ে ৭০ নম্বরের তাই প্রথমে উত্তর করলে সঠিকভাবে উত্তর করা সহজ হয়।
