>> সাইফুল ইসলাম
একজন সফল তরুণ উদ্যোক্তা সাদিক আল সরকার। তিনি কমপ্লিট ডিজিটালাইজেশন অ্যাজেন্সি লিডসাসের প্রতিষ্ঠাতা। সাদিক ২০১৫-এর দিকে লক্ষ করলেন জননিরাপত্তা বা ডিজিটালাইজেশন নিয়ে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানই পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে না। সেখান থেকেই তার এই পথচলার শুরু।
সফলতার সঙ্গে দেশের প্রথম ওয়ান স্টপ শিক্ষাবিষয়ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান লিডসাস। ২০১৫ সালে তিনি দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলেন যে, একটা আধুনিক প্রতিষ্ঠানের যে সার্ভিসগুলো প্রয়োজন, তা কেউই একসঙ্গে দিচ্ছে না। অতঃপর কী কী সার্ভিস থাকলে কমপ্লিট ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান, তথা আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা একটি প্রতিষ্ঠান গড়া সম্ভব, সেগুলো তালিকাভুক্ত করতে থাকেন সাদিক। অতঃপর তিনি ও তার টিম লিডসাস একটি কমপ্লিট ধারণা নিয়ে এগিয়ে যেতে শুরু করেন। যেখানে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থার পাশাপাশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন সম্ভব হবে। আর এভাবেই জন্ম হয় লিডসাস লিমিটেডের। লিডসাস ডিজিটাল প্রোগ্রাম প্রকল্পের আওতায় সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখানে রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা বিভাগ, যেখানে সময়োপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে যথাযথ প্রযুক্তিগত সেবা প্রদানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির চাহিদা ও মতামতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়। এছাড়াও রয়েছে স্বতন্ত্র ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বিভাগ, গ্রাফিক্স ও অ্যানিমেশন বিভাগ, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি ইক্যুপমেন্ট ও অ্যাকসেসরিজসহ নানা বিভাগ।
লিডসাস এর মধ্যেই পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। পৃথিবীর দ্রুততম মানব ক্যালকুলেটর ভানু প্রকাশের নিজস্ব সংগঠন এক্সপ্লোরিং ইনফিনিটিজের ডিজিটাল পার্টনার হয়েছে লিডসাস।
এছাড়াও গত চার বছরে লিডসাস কাজ করেছে একাধিক দেশের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এবং হাল্ট ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস স্কুল দ্বারা পরিচালিত ও জাতিসংঘের সহযোগিতায় চলা হাল্ট প্রাইজ। বিশ্বের তরুণ জনশক্তিকে কাজে লাগাতে জাতিসংঘ প্রণীত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা নরওয়ে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ওয়াইএসআইয়ের (ইয়াং সাসটেনেবল ইম্প্যাক্ট) বাংলাদেশের মিডিয়া ও আউটরিচ ডিরেক্টর এবং ওয়াইএসআইয়ের বাংলাদেশের ডিজিটাল পার্টনার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে সাদিকের লিডসাস। থাইল্যান্ডে ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠন ও ইয়েস ফাউন্ডেশন গ্লোবাল আয়োজিত সেমিনারেও ছিল লিডসাস।
শুধু নারীদের জন্য আয়োজিত চায়না ভিত্তিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা শি লাভ টিচ ও বাংলাদেশের সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক দেশের প্রথম সংগঠন—বাংলাদেশ স্টুডেন্ট জার্নালিজম কাউন্সিল আয়োজিত অনুষ্ঠানসহ দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আয়োজনের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন সাদিক আল সরকার।
সাদিক বলেন, ‘বাংলাদেশে কাজের পাশাপাশি এখন আমরা দেশের বাইরে কাজ করছি। আমরা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ অনেক দেশে পার্টনার হয়ে কাজ করছি। উদ্যোক্তা হিসেবে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি গত বছরের আমন্ত্রণ পান গ্লোবাল এন্টাপ্রেনারশিপ বুটক্যাম্পে অংশ নেওয়ার। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অয়া ইনকরপোরেশনের আয়োজনে ও এমআইটির সহায়তায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন। বিশ্বজুড়ে নানা প্রান্ত থেকে তরুণ উদ্যোক্তারা আমন্ত্রণ পান এখানে। সাদিক মনে করেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার মতো দক্ষতা বাংলাদের তরুণদের আছে।’
যারা উদ্যোক্তা হতে চান, তাদের উদ্দেশে সাদিক আল সরকার বলেন, ‘উদ্যোক্তা হতে গেলে তাকে অবশ্যই কষ্ট করতে হবে। সহজে ভালো কিছু আশা করা বোকামি ছাড়া আর কিছু না। আর যে বিষয়টা নিয়ে কাজ করবে, সেটা সম্পকে ভালো ধারণা থাকতে হবে। তা না হলে ভালো কিছু হবে না।’
