স্ত্রীকে গালাগালি, অপমানে স্বামীর আত্মহত্যা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৩৫

কাজের সময় মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এই অভিযোগে এক নারী শ্রমিককে গালাগাল করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি জানার পর ওই শ্রমিকের স্বামী অনিক মিয়া কারখানায় গিয়ে তার স্ত্রীকে গালাগালের প্রতিবাদ জানান। এসময় কারখানার ৫ কর্মকর্তা অনিক মিয়াকে বেধড়ক পেটান। এরপর তিনি অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাভারের আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার টর্ক ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার গেটে আটকে অনিক মিয়াকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে ওই কারখানার পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

আসামিরা হলেন- টর্ক ফ্যাশন লি. এর অ্যাডমিন অফিসার পিন্টু, সহকারী অ্যাডমিন অফিসার রুবেল, ফ্লোর ইনচার্জ হারুন, সুপারভাইজার পারভেজ এবং অপারেটর রাকিব।

নিহত অনিক মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ থানার আড়াইসিধা গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে। তিনি স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীমকে নিয়ে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার মনিরের ভাড়া বাড়িতে থেকে রং মিস্ত্রীর কাজ করতেন। আর তার স্ত্রী সাবিনা আক্তার মীম ওই এলাকার টর্ক ফ্যাশন লি. কারখানার অপারেটর পদে চাকরি করেন। 

নিহত অনিকের স্ত্রী সাবিনা খাতুন মীম জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারখানায় কর্মরত অবস্থায়  তিনি স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। বিষয়টি কারখানার অ্যাডমিন অফিসার পিন্টুসহ পারভেজ, রুবেল, রাকিব ও হারুন দেখতে পেয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এসময় মোবাইলে তার স্বামী গালিগালাজ শুনতে পেয়ে কারখানার গেইটে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এরপর ওই কর্মকর্তারা অনিককে কারখানার ভিতরে নিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। এ ঘটনার পর অনিক বাসায় ফিরে যান। দুপুর ১টার দিকে স্ত্রীকে আনার জন্য আবারও অনিক কারখানায় গেলে কারখানার ওই কর্মকর্তারা তাকে পিটিয়ে আহত করেন এবং গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে অনিক বাসায় গিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন।

আরো পড়ুন: ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র ঘোষণায় মোদিকে পরামর্শ হাইকোর্টের, সমর্থন দিতে মমতাকে তাগিদ

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রকিবুল ইসলাম জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থানায় হত্যা প্ররোচনায় মামলা হয়েছে। তবে এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচ