যোদ্ধার নাম মৌসুমী

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৪২

পথটা মসৃণ নয়, অনেক কাঁটা বিছানোই ছিল। কিন্তু চিত্রনায়িকা মৌসুমী সেই পথ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পাত্রী নন। তিনি জানেন, গোলাপের সুবাস নিতে গেলে কাঁটার আঘাত লাগতেই পারে। আগামীকাল ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দারুণ আয়োজন করেই প্রচারণায় নেমেছিলেন মৌসুমী। শুরুতে নির্বাচনে দুটি প্যানেলে মিশা-জায়েদ ও মৌসুমী-তায়েবের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল। এদিকে হঠাত্ করেই ভেঙে যায় মৌসুমী-তায়েব প্যানেল। কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাদের মাঝে বাধার দেয়াল তৈরি করে। মৌসুমীর সঙ্গে যাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল, তারা সবাই সরে গেলেন। একসময় নায়িকা আবিষ্কার করলেন নির্বাচনের মাঠে তিনি একা। কেউ নেই তার পাশে। যারা তাকে সভাপতি পদে নির্বাচন করার পরামর্শ ও সাহস জুগিয়েছিলেন, তারাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সটকে পড়েন। তবে বিষয়টি নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। এই প্রিয়দর্শিনী বলেন, ‘জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো এই চলচ্চিত্রকে ভালোবেসেই কাটিয়েছি। নিজের পরিবারের বাইরে চলচ্চিত্রশিল্পীদের নিয়ে আমার আরেকটি পরিবার গড়ে উঠেছে। শিল্পীরাই আমার আপনজন। তাদের নানা অধিকারের কথা ভেবেই আমি সভাপতি পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার সঙ্গে যাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল, তারা ব্যক্তিগত কারণে হয়তো নির্বাচনে আমাকে সঙ্গ দেয়নি। কিন্তু মানসিকভাবে তারা আমার সঙ্গেই রয়েছেন। আমার সিনিয়র-জুনিয়র অনেকেই প্রতিনিয়ত নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে আমি কিন্তু আর একা নই। একটা অদৃশ্য শক্তি চেয়েছিল, সবাইকে বসিয়ে দিলে আমিও নির্বাচন করব না; কিন্তু আমি করছি। কারণ আমার মনে হয়েছে, কাউকে না কাউকে তো একটা সময় প্রতিবাদ করতে হয়।’ তাই বলা যায়, মৌসুমী এখন প্রতিবাদের একটি ভাষা। অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি আপসহীন এক নেত্রী। অন্যরকম এক যোদ্ধা। সেলুলয়েডের বাইরে মৌসুমীর ভক্ত-দর্শকরা বাস্তবেও পেয়েছেন প্রতিবাদী এক মৌসুমীকে। এই মৌসুমী হতে পারেন চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সেরা চমক। আর এই ইতিহাস গড়ে দিতে পারেন ভোটাররাই। কারণ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নায়িকা বা নারী সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মৌসুমী যেভাবে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করে যাচ্ছেন, নির্বাচন থেকে সরে না গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার এই অটল ও অবিচল থাকা, ভোটারদের মনে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। তারা যদি শিল্পী সমিতির ইতিহাসের কথা বিবেচনা করে একজন নারী প্রার্থী হিসেবে মৌসুমীকে নীরবে ভোট দিয়ে দেন, তবে নতুন এক বিপ্লবের সূচনা হতে পারে। মৌসুমীও হয়ে যেতে পারেন শিল্পী সমিতির ইতিহাস। নির্বাচনের দিনটি আসার আগে গুণী ও বিনয়ী এই অভিনেত্রী-পরিচালক সব বিধি মেনেই নির্বাচনী প্রচারণা করছেন। প্রতিদিন সময় করে করে ভোটারদের কাছে ভোট চেয়েছেন তিনি। মৌসুমী অনায়াসে স্বীকারও করছেন অনেকের কাছে তার ভোটের আহ্বানে ফোন পৌঁছায়নি। কিন্তু মৌসুমী কথা দিয়েছেন অবশ্যই তিনি প্রত্যেক ভোটারের কাছে নিজেই ভোট চাইবেন। মৌসুমী বলেন, ‘আমি সুষ্ঠু সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচনেরই প্রত্যাশা করছি। শিল্পীদের, ভোটারদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। প্রশাসনের সহযোগিতা চাইছি যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা ভোট প্রদান করতে পারেন। নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা চাইছি। শিল্পীদের প্রতি, ভোটারদের প্রতি বলছি, আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসা আমার খুব প্রয়োজন। এই মুহূর্তে আপনারা আপনাদের দোয়া-ভালোবাসা থেকে আমাকে বঞ্চিত করবেন না। আমার অনুরোধ রইল আপনাদের প্রতি, আগামী ২৫ অক্টোবর ভোটের মাধ্যমে আমাকে সমর্থন দিন, আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আমি শিল্পীদেরকে তাদের মর্যাদার জায়গায় দেখতে চাই, শিল্পীদের মর্যাদা রক্ষার জন্যই আমি কাজ করে যাব ইনশাআল্লাহ।’ মৌসুমী আরো জানিয়েছেন, শিল্পী সমিতি থেকে তিনি ভোটারদের মুঠোফোন নম্বরসহ যে তালিকাটি পেয়েছেন, তাতে প্রায় ২৫০ জন ভোটারের নম্বরই ভুল। তাই সঠিক নম্বর সংগ্রহ করে ভোটারদের ফোন করতে বেশ বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তাকে। তবে ভোটারদের অনেকেই বলেছেন, মৌসুমীকে যতই প্রতিকূলতায় ফেলা হোক না কেন, তার বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ইতিহাস হবেনই।