জিয়াউল হাসান সবুজ, সহকারী শিক্ষক
গজালিয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাগেরহাট।
প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের জন্য ধারাবাহিকভাবে বাংলা বানানের বিভিন্ ্ননিয়ম প্রকাশ হচ্ছে। গত কয়েক পর্ব থেকে আমরা প্রমিত বাংলা বানানের কিছ ুগুরুত্বপূণর্ নিয়ম জেনে আসছি। আশা করছি তোমরা নিয়মিত অনুসরণ করছো। এসো দেখে নেই আজকের বিষয়।
পূর্ব প্রকাশের পর-
৩৯। হয়তো, নয়তো বাদে সকল তো আলাদা হবে। যেমন : আমি তো যাইনি, সে তো আসেনি ইত্যাদি।
মূলশব্দের শেষে আলাদা তো ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে।]
৪০। ঙ, ঞ, ণ, ন, ং বর্ণের পূর্বে ঁহবে না। যেমন: খান (খাঁ), চান, চন্দ (চাঁদ), পঞ্চ, পঞ্চাশ (পাঁচ) ইত্যাদি।
৪১। এছাড়া বা পৃথকরূপে ব্যবহার করা যাবে না। যেমন: বাংলাদেশ-এর না লিখে বাংলাদেশের, কোম্পানি-এর না লিখে কোম্পানির, শিক্ষক-এর না লিখে শিক্ষকের, স্টেডিয়াম-এ না লিখে স্টেডিয়ামে, অফিস-এ না লিখে অফিসে লিখতে হবে।
৪২। বিসর্গ (ঃ ) ব্যবহার: বিসর্গ একটি বাংলা বর্ণ এটি কোনো চিহ্ন নয়। বণর্ হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। বিসর্গ (ঃ) হলো অঘোষ ‘হ্’-এর উচ্চারণে প্রাপ্ত ধ্বনি। ‘হ’-এর উচ্চারণ ঘোষ কিন্তু বিসর্গ (ঃ)-এর উচ্চারণ অঘোষ। বাংলায় ভাষায় বিস্ময়াদি প্রকাশে বিসর্গ (ঃ )-এর উচ্চারণ প্রকাশ পায়। যেমন:আঃ, উঃ, ওঃ, ছিঃ, বাঃ। পদের শেষে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার হবে না। যেমন:ধর্মত, কার্যত, আইনত, ন্যায়ত, করত, বস্তুত, ক্রমশ, প্রায়শ ইত্যাদি। পদ মধ্যস্থে বিসগর্ ব্যবহার হবে। যেমন: অতঃপর, দুঃখ, স্বতঃস্ফূর্ত, অন্তঃস্থল, পুনঃপুন, পুনঃপ্রকাশ, পুনঃপরীক্ষা, পুনঃপ্রবেশ, পুনঃ প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি। অর্ধশব্দকে পূর্ণতা দানে অর্থাত্ পূণর্ শব্দকে সংক্ষিপ্তরূপে প্রকাশে বিসর্গ ব্যবহার করা হলেও আধুনিক বানানে ডট ( . ) ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন:ডাক্তার> ডা. (ডাঃ), ডক্টর> ড. (ডঃ), লিমিটেড >লি. (লিঃ) ইত্যাদি। বিসর্গ যেহেতু বাংলা বর্ণ এবং এর নিজস্ব ব্যবহার বিধি আছে তাই এধরনের বানানে (ডাক্তার>ডা., ডক্টর>ড., লিমিটেড>লি.) বিসগর্ ব্যবহার বর্জন করা হয়েছে। কারণ বিসর্গ যতি চিহ্ন নয়
[সতর্কীকরণ: বিসর্গ (ঃ)-এর স্থলে কোলন ( : ) কোনোভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। যেমন: অত:পর, দু:খ ইত্যাদি। কারণ কোলন ( : ) কোনো বর্ণ নয়, চিহ্ন। যতিচিহ্ন হিসেবে বিসর্গ (ঃ) ব্যবহার যাবে না। যেমন: নামঃ রেজা, থানাঃ লাকসাম, জেলাঃ কুমিল্লা, ১ ঃ ৯ ইত্যাদি।]
৪৩। জাতিবাচক শব্দে “ ি ” হবে। যেমন: বাঙালি, মারাঠি, ফরাসি ইত্যাদি।
৪৪। সন্ধিরকারণে ‘ ি ’ বা ‘ ী ’ হতে পারে। যেমন: রবি +ইন্দও = রবীন্দ্র, যতি+ইন্দ্র = যতীন্দ্র, কাঠ + ই = কাঠি ইত্যাদি। এভাবে আরো আছে যেমন: কটূক্তি, মরূদ্যান ইত্যাদি।
৪৫। সংস্কৃত শব্দে ‘ ী ’ থাকলে বাংলায় তা ‘ি ’ হবে। যেমন: পক্ষী- পাখি, হস্তী- হাতি, কুম্ভীর- কুমির, গৃহিনী- গিন্নি ইত্যাদি।
৪৬। সংস্কৃত নারীবাচক শব্দে ‘ ী ’ হবে। যেমন: গৃহিনী, কল্যাণী, নেত্রী, পাত্রী, গর্ভধারিণী ও ভিখারিনী ইত্যাদি।
৪৭। বিস্ময় প্রকাশ করতে যে ‘কী!’ ব্যবহার সেটি অবশ্যই ‘ ী ’ হবে। যেমন :রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেন- কী! শোভাকী! ছায়াগো, কী! স্নেহকী! মায়াগো, তুমিকী! সুন্দরগো! ইত্যাদি। আর এধরনের ‘কী’র সাথে অবশ্যই একটা বিস্ময়সূচক চিহ্ন হবে।
(সূত্র: ভাষা শিক্ষা ও ব্যাকরণ-মাহবুবুল আলম, ভাষা প্রকাশ ব্যাকরণ ও রচনা -অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী )
নিয়মিত চোখ রাখো বাংলা বানানের ‘নিয়মকানুন’ ফেইসবুক পেইজ গ্রুপে ও ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ এর অনুশীলন পাতায়।
