ঝিনাইদহে লাম্পি স্কিন রোগে ১ লাখ গরু আক্রান্ত!

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২১:১৫

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

গত সাড়ে তিন মাসে ঝিনাইদহ জেলায় অন্তত ১ লাখ গরু-বাছুর লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগ এখনো নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। প্রতিদিনই নতুন করে গরু-বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু ুবাছুর মারা গেছে বলে জানা গেছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে ঝিনাইদহ জেলাতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।  লক্ষণ দেখে প্রথমে গো বসন্ত বলে ধারণা করা হয়। আক্রান্ত গরুর প্রচণ্ড জ্বর আসে। পেটে ও দুই পায়ের মাঝখানে পানি জমে। হাঁটুতে ঘা হয়। এরপর গরুর সারা শরীরে বসন্তের মতো গুটি বের হয়। গরু দুর্বল হয়ে পড়ে। খেতে পারে না। পরে গুটিগুলো পেকে ফেটে যায়। ক্ষতের সৃষ্টি হয়। লাঙ্গল টানতে পারে না। গাভির দুধ কমে যায়। রোগাক্রান্ত বেশি হলে বাছুর গরু মারা যায়। প্রথম দিকে এ রোগকে গো বসন্ত বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে আক্রান্ত গরুর ক্ষতস্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। রোগটি লাম্পি স্কিন ডিজিজ বলে চিহ্নিত হয়। আমাদের দেশে রোগটি নতুন। আফ্রিকার দেশে এ রোগ আছে। রোগটি ভাইরাসবাহিত। এক গোয়ালে একটি গরু আক্রান্ত হলে অন্যগুলোও আক্রান্ত হয়। রোগের বাহক হচ্ছে মাছি। লক্ষণ দেখে চিকিত্সা দেওয়া হয়ে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়।

শৈলকুপা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের চাষি ঝন্টু জোয়ার্দ্দার জানান, তার দুটি গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের আশপাশের গ্রামেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির পশু চিকিত্সক সুযোগ বুঝে চাষিদের কাছ থেকে দুই হাজার করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান জানান, এ জেলায় সাড়ে ৫ লাখ গরু-বাছুর আছে। এর মধ্যে অন্তত ১ লাখ গরু লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত হয়েছে। এ রোগের প্রতিষেধক টিকা নেই। প্রতিষেধক হিসেবে গো বসন্তের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। এ জেলায় ঢাকা থেকে ৩০ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। তা ফুরিয়ে গেছে। তিনি জানান, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭টি বাছুর গরু মারা গেছে।