নেই সতর্কতা ফলক
বান্দরবান প্রতিনিধি
বান্দরবানে পাহাড়ের রোমাঞ্চকর এবং সৌন্দর্য ছড়ানো ঝরনাগুলো হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ড এবং দিক-নির্দেশনা না থাকায় স্পটগুলোতে বাড়ছে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করছেন বেড়াতে আসা পর্যটকরা। ইতিমধ্যে তিনাপ সাইতার, রিজুক, নাফাকুম, অমিয়কুম, রেমাক্রী, শৈলপ্রপাত, দামতুয়া, রুপালী ঝরনা ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ভ্রমণে গিয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, চিকিত্সক, আইডিয়াল কলেজের ছাত্রসহ কয়েকজনের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে। তারপরও স্থানীয় প্রশাসন ও পর্যটন করপোরেশন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানায়, পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি জেলা হচ্ছে বান্দরবান। বৈচিত্র্যময় এ জেলায় রয়েছে প্রাকৃতিক লেক, ঝুলন্ত সেতু, দেশের সর্বোচ্চ পর্বত চূড়া, ডিমপাহাড়, আলীর সুরঙ্গ, দেবতা পাহাড়, বড়োপাথর, স্বর্ণমন্দির, নদী, চা বাগান, দেশের সবচেয়ে উঁচু সড়কপথ এবং অসংখ্য ঝরনাধারা। দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে—থানচি উপজেলার নাফাকুম, অমিয়কুম, রেমাক্রী ঝরনা, রুমা উপজেলার রিজুক, তিনাপ সাইতার, জাদীপাই, চিংড়ি ঝরনা, আলীকদম উপজেলার দামতুয়া, কুরুতপাতা ঝরনা, বান্দরবান সদরের শৈলপ্রপাত, রুপালী, আমতলীপাড়া ঝরনা। তবে বর্ষায় পাহাড়ের ঝরনাগুলোর সৌন্দর্য যেন অন্যসব দর্শনীয় স্থানগুলোকে ছাড়িয়ে যায়। অনেক দূর থেকে শোনা যায় পাহাড়ের ওপর থেকে ঝরে পড়া ঝরনার পানির শব্দ। এ যেন অন্যরকম এক অনুভূতি। তবে লাগাতার বৃষ্টিতে পাহাড়ের রোমাঞ্চকর এবং মনোমুগ্ধকর ঝরনাগুলো হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ভ্রমণের জন্য দর্শনার্থীদের জন্য এখনো গড়ে তোলা হয়নি কোনো সড়কপথ। কখনো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে, কখনো পাথরের ওপর দিয়ে, কখনো পাহাড়ি ছড়া-খাল পার হয়ে হেঁটে যেতে হয় ঝরনাগুলোতে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক রোমান সিদ্দিকী, রেদোয়ান হাসান, ইসিতা রহমান সামিয়া বলেন, ঝরনাগুলো পাহাড়ের প্রাণ। পর্যটকদের সবচেয়ে টানে এসব ঝরনা। বান্দরবান জেলায় ঝরনার সংখ্যা কম নয়। একাধিক ভ্রমণে এসে থানচি উপজেলার নাফাকুম, অমিয়কুম, রেমাক্রী ঝরনা, রুমা উপজেলার রিজুক, তিনাপ সাইতার, জাদীপাই, চিংড়ি ঝরনা, আলীকদমের দামতুয়া, কুরুতপাতা ঝরনা, বান্দরবান সদরের শৈলপ্রপাত, রুপালী ঝরনা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। শীত এবং বর্ষা দুটি মৌসুমেই বিপজ্জনক ঝরনাগুলো। তবে বর্ষায় চলাচলের পথগুলো পিচ্ছিল এবং পানির গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় ঝরনাগুলো সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসন এবং পর্যটন করপোরেশনের পক্ষ থেকে লাগানো সতর্কতামূলক কোনো সাইনবোর্ড এবং দিক-নির্দেশনা চোখে পড়েনি। প্রাণহানি এবং দুর্ঘটনা রোধে বিষয়টির দিকে নজর দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম জানান, দামতুয়া ঝরনার সৌন্দর্যবর্ধন এবং চলাচলের জন্য পথ তৈরির উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো সমস্যা নেই। তবে বৃষ্টির সময় ঝরনায় যাওয়ার পাহাড়ি পথগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায় এবং পানিও বেড়ে যায়। একারণে লাগাতার বৃষ্টি হলে নাফাকুম, তিনাপ সাইতারসহ দুর্গমাঞ্চলের দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু ঝরনাগুলো ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের নিজেদেরও আরেকটু সতর্ক থাকা দরকার।
