দীর্ঘ ৯ বছর পর এমপিওভুক্তির বন্ধ দরজা খুলল। জারি হলো ১ হাজার ৭৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন। গতকাল বুধবার এই প্রজ্ঞাপন জারি হলেও শিক্ষকরা ১ জুলাই থেকে এমপিওভুক্তির সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে বেতনের মূল অংশ পেয়ে থাকেন। এছাড়া দুটি উত্সব ভাতা (শিক্ষকরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ ও কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ), বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ, বাড়ি ভাড়া ১ হাজার টাকা, চিকিত্সা ভাতা ৫০০ টাকা পেয়ে থাকেন। এছাড়া অবসরে যাওয়ার পর এককালীন অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের ভাতা পেয়ে থাকেন।
গতকাল নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কুল ও কলেজ রয়েছে ১ হাজার ৬৫১টি। এর মধ্যে নিম্ন-মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি) ৪৩৯টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) ১০৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণি স্তরের প্রতিষ্ঠান ৮৮৭টি, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৮টি, কলেজ (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) ৯৩টি এবং ডিগ্রি কলেজ ৫৬টি। এছাড়া কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের অধীন মাদ্রাসা রয়েছে ৫৫৭টি। এর মধ্যে দাখিল স্তরের মাদ্রাসা ৩৫৮টি, আলিম স্তরের ১২৮টি, ফাযিল স্তরের ৪২টি ও কামিল স্তরের ২৯টি মাদ্রাসা রয়েছে।
গতকাল এমপিওভুক্ত হয়েছে ৫২২টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে কৃষিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ৬২টি, ভোকেশনাল (স্বতন্ত্র) ৪৮টি, সংযুক্ত ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠান ১২৯টি, বিএম স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান ১৭৫টি এবং বিএম সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান ১০৮টি।
সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জন্য আন্দোলন করে আসছেন। এমনকি সংসদ সদস্যরাও এমপিওভুক্তির জন্য জাতীয় সংসদে একাধিকবার বলেছেন। গত বছরের জুন মাসে এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারির পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমপিওভুক্তির জন্য দুটি কমিটি গঠন করে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণের পর তাদের যাচাই-বাছাইয়ে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি হলো।
