ফিটনেসবিহীন গাড়িতে জ্বালানি নয় :হাইকোর্ট

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ২২:১৮

হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বিআরটিএ থেকে মাত্র ৯০ হাজার যানবাহন ফিটনেস নবায়ন করেছে। ফিটনেস নবায়ন না করা যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। এমতাবস্থায় ফিটনেসবিহীন গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ না করতে ফিলিং স্টেশন মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। দুই মাস বা ফিটনেস নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। একইসঙ্গে পরিবহনগুলো যাতে জ্বালানি নিতে না পারে সেজন্য পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। বিআরটিএ ও পুলিশের আইজির দাখিলকৃত দুটি প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ আদেশ দেন। আগামী ১০ জানুয়ারি এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রাখা হয়েছে। আদালত বলেছে, সভ্য সমাজে এ ধরনের নৈরাজ্য চলতে পারে না। আমাদের সকলকে আইন মেনে চলতে হবে। সচেতন হতে হবে।

হাইকোর্টের নির্দেশে গত জুলাই মাসে বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন গাড়ির তালিকা আদালতে দাখিল করে। এতে দেখা যায়, ঢাকাসহ সারাদেশে লাইসেন্স নিয়ে ফিটনেস নবায়ন না করা গাড়ির সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩২০টি। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২ লাখ ৬১ হাজার ১১৩টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮৮টি, রাজশাহী বিভাগে ২৬ হাজার ২৪০টি, রংপুর বিভাগে ৬ হাজার ৫৬৮টি, খুলনা বিভাগে ১৫ হাজার ৬৬৮টি, সিলেট বিভাগে ৪৪ হাজার ৮০৫টি এবং বরিশাল বিভাগে ৫ হাজার ৩৩৮টি মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেসবিহীন যানবাহন রয়েছে। এতে আরো বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিআরটিএ ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ৩৯ হাজার ৮৩৭টি মামলা করেছে। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৬ কোটি ৭২ লাখ ২৩ হাজার ৩৯২ টাকা। ডাম্পিং করা হয়েছে ২১৪টি গাড়ি। ৭২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর পরই হাইকোর্ট দুই মাসের মধ্যে অর্থাত্ পহেলা আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফিটনেস নবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের এ নির্দেশের পরই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিআরটিএ। ঐ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর উল্লেখিত সময়ের মধ্যে ৮৯ হাজার ২৬৯টি যানবাহনের ফিটনেস নবায়ন করে বিআরটিএ।

গতকাল এ তথ্য আদালতে তুলে ধরে বিআরটিএর আইনজীবী মঈন ফিরোজী বলেন, ডিএমপির সাবেক পুলিশ কমিশনার এম আছাদুজ্জামান মিয়া ঢাকা মহানগরে হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালানোদের তেল না দিতে পেট্রোলপাম্প মালিকদের নির্দেশ দিয়েছিল। ঐ নির্দেশের পর মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে সচেতনতা ফিরে আসে এবং তারা হেলমেট ব্যবহার করতে থাকে। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের ক্ষেত্রে আদালত এ ধরনের নির্দেশনা দিতে পারে।

ডিএজি আমিনউদ্দিন মানিক বলেন, হাইকোর্ট লাইসেন্স ও ফিটনেস সার্টিফিকেট ছাড়া তেল ও গ্যাস না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফিলিং স্টেশন পরিচালনাকারীরা এটা নিশ্চিত করবে।

প্রসঙ্গত ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে একটি ইংরেজি দৈনিকে গত ২৩ মার্চ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট বিআরটিএর কাছে ফিটনেসবিহীন গাড়ির তালিকা চায়।

 

 

০