মা-ইলিশ রক্ষার অভিযানে গত ১৫ দিনে নৌ-পুলিশ প্রায় সাড়ে ৩ কোটি মিটার কারেন্ট জাল ও ১৫০০ কেজি মা-ইলিশ জব্দ করেছে। জব্দ করা মা-ইলিশ এতিমখানায় সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল এ ব্যাপারে নৌ-পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, সরকার ঘোষিত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ‘মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে কেন্দ্র করে মা-ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। এই ২২ দিনে যদি কেউ নদীতে জাল ফেলে ইলিশ মাছ ধরে তাহলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। এ সময় মা-ইলিশ ২০ লাখ থেকে ২২ লাখ ডিম ছাড়ে। যদি অর্ধেক ডিমও পরিপূর্ণ মাছ হয় তাহলে আমরা ১০ থেকে ২২ লাখ ইলিশ মাছ পাব।
গতকাল মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরের দশকানি, বিসিক এলাকা ও গোসাইবাগে কারেন্ট জাল কারখানায় অভিযান চালিয়ে সাড়ে ৩ কোটি মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে ধ্বংস করে নৌ-পুলিশ। ২৩৪টি বেহুন্দী জাল ও ৩৫৬টি লোহার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এসব ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ৪টি মামলা করে নৌ-পুলিশ। গত ৯ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান, লৌহজং, চাঁদপুরের মেঘনা নদীসহ মা-ইলিশের ডিম ছাড়ার এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০০ কেজি মা-ইলিশ জব্দ করে জেলেদের কাছ থেকে। এ ঘটনায় ৯৬ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাছ ধরায় ব্যবহূত ১৬টি নৌকা মাঝ নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয় এবং চারটি নৌকা বিভিন্ন নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে হেফাজতে রাখা হয়।
অপরদিকে, কোস্ট গার্ড গতকাল মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও মাওয়ায় পদ্মা নদী এবং বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে অভিযান পরিচালনা করে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১৫০০ কেজি মা-ইলিশ জব্দ করেছে। এ ঘটনায় ২৪ জেলেকে আটক করে। পটুয়াখালীর বাউফলের তেঁতুলিয়া ও চন্দ্রদ্বীপ নদীতে পরিচালনা করে ৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১৬০ কেজি মা-ইলিশসহ ১৯ জেলেকে আটক করা হয়। জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়। জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিম ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করে কোস্ট গার্ড।
