সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার এলাকায় এক জেলেকে মাথায় গুলি করার অভিযোগ উঠেছে নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের বিরুদ্ধে। বুধবার সকালে মেঘনায় মা-ইলিশ ধরার অপরাধে ঐ জেলেকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে পুলিশ শটগান থেকে রাবার বুলেট ছুড়েছে বলে স্বীকার করে। ঘটনার পর মাসুম আলী (৪৭) নামে আহত ঐ জেলেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে ঐ জেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিত্সাধীন রয়েছেন। আহত মাসুম আলীর বাড়ি আড়াইহাজার উপজেলার লেঙ্গুরকান্দি গ্রামে। অন্যদিকে জেলেদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
আহত জেলে মাসুম আলীর ছেলে আব্দুল আলী জানান, সোনারগাঁওয়ে মেঘনা নদীর বৈদ্যেরবাজার ও নুনেরটেক এলাকায় বুধবার সকালে তিনি ও তার বাবা দুপুরের খাবারের জন্য নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ এসে তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করে। এ সময় তারা দুপুরের খাবারের জন্য শুধু অল্প মাছ ধরবেন বলে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের একজন কর্মকর্তা তাদের গুলি করার নির্দেশ দিলে একজন পুলিশ সদস্য তার বাবার মাথায় গুলি করেন। এতে তিনি নৌকার মধ্যে লুটিয়ে পড়লে পুলিশ সদস্যরা তাকে প্রথমে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি আনোয়ারুল হক জানান, মা-ইলিশ মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা নিয়মিত নদীতে অভিযান পরিচালনা করি। সকালেও দুটি নৌকার অভিযান চালিয়ে কারেন্ট জাল ধ্বংস করার জন্য নদী থেকে জাল উঠাচ্ছিলাম। হঠাত্ মাসুম আলী ও তার ছেলে একটি নৌকায় ও আরো কয়েকটি ছোটো ছোটো নৌকায় কিছু জেলে এসে বৈঠা দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে আমরা রাবার বুলেট ছুড়লে এতে মাসুম আলীর কানের ওপর দিকে একটি গুলি লাগে। পরে তাকে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। তবে তিনি দাবি করেন, জেলেদের হামলায় ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার ও কনস্টেবল রেজাউল আহত হয়েছেন। তারাও হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
দোহারে ৩১ জনের সাজা
দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ ধরার অপরাধে ঢাকার দোহারে ৩১ জেলেকে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃতদের মধ্যে ২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও আট জনকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। বুধবার সকালে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা আক্তার রিবা জানান, মৌসুমি জেলেদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। আমরা সেই সিন্ডিকেট খোঁজার চেষ্টা করছি। দ্রুত তাদের শনাক্ত করা হবে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আড়াইহাজারে ৩৬ লাখ টাকার
কারেন্ট জাল জব্দ
আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সরকারি নিষেধ অমান্য করে আড়াইহাজারে মেঘনা নদীতে মা-ইলিশ নিধন করায় দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ৪০ কেজি ইলিশ মাছ জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৮টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সহকারী কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উজ্জ্বল হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় উপজেলার বিশনন্দী, খাগকান্দা ও কালাপাহাড়িয়া এলাকায় মেঘনা নদী থেকে দেড় লাখ মিটার কারেন্ট জাল (মূল্য ৩৬ লাখ টাকা ) জব্দ করা হয়। এ সময় খাগকান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ মো. আকরাম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আট জন জেলের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়। জব্দকৃত জাল পরে পুড়িয়ে ফেলা হয় এবং মাছ এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয়।
