শিরোপাধারী রিয়াল মাদ্রিদ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের মাঠে সিএসকেএ মস্কোর কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে। বিস্ময়করভাবে গত বুধবার রাতে হারের বিস্বাদ নিয়েছে অন্য বড় দলগুলোও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২-১ গোলে পরাস্ত হয়েছে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে। জুভেন্তাসও একই ব্যবধানে ইয়ং বয়েজের মাঠে হেরেছে। শিরোপা প্রত্যাশীদের মাঝে কেবল ম্যানচেস্টার সিটিই এই রাতে জয়ের মুখ দেখেছে। ইত্তেহাদ স্টেডিয়ামে হফেনহেইমের বিপক্ষে ২-১ গোলের ঘাম ঝরানো জয় পেয়েছে দলটি। বায়ার্ন মিউনিখ পিছিয়ে পড়েও ৩-৩ গোলে ড্র করেছে আয়াক্সের মাঠে। বাজে ফলের পরও দলগুলোর অবস্থানে তেমন হেরফের ঘটেনি।
রিয়াল কোচ সান্তিয়াগো সোলারি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বেশ পরিবর্তিত দলই মাঠে নামিয়েছিলেন। তরুণদের নিজেদের প্রমাণের মরিয়া প্রয়াসে প্রথমার্ধে বেশ প্রাণবন্ত ছিল রিয়ালের সব আক্রমণ। কিন্তু ৩৭ মিনিটে উল্টো গোলের দেখা পায় মস্কোর দলটি। গোল করেন ফিওদর চেলভ। বিরতির ঠিক আগে গিওর্গি শেনিকভের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় তাদের। ৭৩ মিনিটে আর্নর সিগুর্ডসনের গোলে নিজ মাঠে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বড় হারের লজ্জায় পোড়ে রিয়াল।
এমন জয়ও ইউরোপা লিগে মস্কোর স্থান নিশ্চিতে যথেষ্ট হয়নি। কেননা ‘জি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ভিক্টোরিয়া প্লজেন ২-১ গোলে হারিয়েছে রোমাকে।
হেরেছে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষ দুই দল জুভেন্তাস এবং ম্যান ইউ। গ্রুপসেরা হতে শেষ ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার মাঠে কেবল জয়ই যথেষ্ট ছিলো না ম্যানইউর, জুভেন্তাসের অমঙ্গলও কামনা করতে হতো। ইয়ং বয়েজের বিপক্ষে তা ঘটলেও রেড ডেভিলরা তা কাজে লাগাতে পারেনি।
মরিনহোর দল ১৭ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে। ভ্যালেন্সিয়াকে এগিয়ে দেন কার্লোস সোলের। ৪৭ মিনিটে ভ্যালেন্সিয়া মিডফিল্ডার দানি পারেহোর থ্রো ঠিকঠাক আটকাতে না পেরে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন ম্যানইউ ডিফেন্ডার ফিল জোন্স। ৮৭ মিনিটে মার্কাস র্যাশফোর্ড গোল করলেও তা হার এড়াতে যথেষ্ট ছিলো না ইউনাইটেডের জন্য।
জুভেন্তাসের হারে আছে কিছুটা দুর্ভাগ্যও। দুই অর্ধ মিলিয়ে তিনবার গোলপোস্টে প্রতিহত হয়েছে তাদের প্রয়াস। জুভেন্তাসের দুর্ভোগের সুযোগ নেয় ইয়ং বয়েজ। ফরোয়ার্ড গিলের্মে হোয়ারাওয়ের জোড়া গোলে চালকের আসনে চলে যায় তারা।
জুভেন্তাসকে ম্যাচে ফিরিয়েছিলেন বদলি খেলোয়াড় পাওলো দিবালা। ৮০ মিনিটে দুর্দান্ত এক ভলিতে ব্যবধান কমান আর্জেন্টাইন এই ফরোয়ার্ড। তবে ইতালীয় চ্যাম্পিয়নদের দুর্ভাগ্য কেবল শট গোলপোস্টে প্রতিহত হওয়াতে সীমাবদ্ধ ছিলো না। যোগ করা সময়ে ২০ গজ বাইরে থেকে দিবালার প্রয়াসে বক্সে দাঁড়ানো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মাথা ছোঁয়ানোর চেষ্টা অফসাইডের খড়গে পড়ে।
সিটি ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের মাঠে পিছিয়ে পড়েও জিতেছে। ১৬ মিনিটে আন্দ্রেই ক্রামারিচের লক্ষ্যভেদে এগিয়ে যায় হফেনহেইম। তবে বিরতির আগে দারুণ ফ্রি-কিক সিটিকে সমতায় ফেরান লেরয় সানে। ৬১ মিনিটে এই জার্মান ফরোয়ার্ড নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেলে ২-১ ব্যবধানে জয়ী হয় পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা।
আয়াক্সের মাঠে ৩-৩ গোলে ড্র করে ‘ই’ গ্রুপের সেরা হিসেবেই পরের পর্বে উঠেছে বায়ার্ন। এই ম্যাচে জোড়া গোল করে সেরা গোলদাতা হিসেবে গ্রুপ পর্ব শেষ করেন বায়ার্নের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভান্ডোভস্কি। এবারের গ্রুপ পর্বে তার গোলসংখ্যা ৮টি।
