বিশ্ববাণিজ্যে লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন মুদ্রা ডলারের একক আধিপত্য স্পষ্ট। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ডলারের আধিপত্যও কমছে না, বরং বাড়ছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণায় দেখা গেছে, এক দশকে দেশের আমদানি বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল ডলারের মাধ্যমে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটি বেড়ে ৮৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর রপ্তানি বাণিজ্যের ৯৭ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই মুদ্রার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে বিআইবিএম অডিটোরিয়ামে এ সংক্রান্ত এক গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেওয়া হয়। ‘বৈদেশিক বাণিজ্যে ইউএস ডলারের ব্যবহার : বিকল্প উপায় কী’ শীর্ষক ঐ গোলটেবিল বৈঠকে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা এ মুহূর্তে নেই। তবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে সেই সব দেশের নিজস্ব মুদ্রা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, যা লেনদেনের খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, লেনদেনের ব্যয় কমাতে ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বিআইবিএমের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মহাঃ নাজিমুদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরাসরি মুদ্রা ব্যবহার করলে খরচ কমবে। এতে ডলারের ওপর চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু এখনো ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা বাজারে চালু নেই।
গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক এবং পরিচালক ড. শাহ মো. আহসান হাবীব। আট সদস্যের একটি গবেষণা দল এ গবেষণা সম্পন্ন করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন বিআইবিএমের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের সাবেক সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি প্রমুখ।
