রাজউকের নকশা অনুমোদন থেকে ভবন ব্যবহারের সনদ মিলবে অনলাইনে

ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন

পারমিটিং সিস্টেমের

উদ্বোধন

নিলয় মামুন

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এখন থেকে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও কষ্ট লাঘব করতে ভবনের নকশা অনুমোদন থেকে ভবন ব্যবহার সনদ প্রদান পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আবেদনকারী তার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবে অনলাইন ও ইমেইলের মাধ্যমে। সার্ভিস গ্রহণের ফি বাবদ টাকা নিজের সুবিধাজনক যে কোনো সময়ে যে কোনো স্থান থেকে অনলাইনের মাধ্যমেই তিনি জমা দিতে পারবেন। অর্থ পরিশোধের মাধ্যম হিসেবে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সিস্টেম ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ, বিকাশ, রকেট) ইত্যাদি প্ল্যাটফরম ব্যবহার করা যাবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেমের উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়ন করছে রাজউক। গতকাল এই প্রকল্পের আওতায় আইএবি ও আইইবির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার মাধ্যমে নকশা ও  প্রকৌশলী সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হবে রাজউক। এছাড়া এই সিস্টেম বাস্তবায়ন করতে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

ইসিপিএস সিস্টেমে অনলাইনের মাধ্যমে বর্তমানে রাজউকের জোন-৩/২ এর গুলশান, মিরপুর, সাভার, টঙ্গী এবং জোন-৪/২ এর গুলশান এলাকার জন্য প্রাথমিকভাবে এটি চালু করা হয়েছে। এছাড়া কয়েক মাসের ভেতর পর্যায়ক্রমে রাজউকের সব জোন এবং সাব-জোনে সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এই এসিপিএস পদ্ধতিটি ডেভেলপমেন্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আরটিআই ইন্টারন্যাশনাল।

গতকাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক আবদুল লতিফ হেলালী বলেন, এক সময় আমি অথরাইজ অফিসার ছিলাম। সে সময় দেখেছি নকশা অনুমোদন নিয়ে কী পরিমাণ হয়রানির মধ্যে পড়তে হয়। তখন থেকে আমি অনলাইনে সফটওয়ারের মাধ্যমে এসব নিষ্পত্তির একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আর সেটি আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো। এর মাধ্যমে সেবাগ্রহীতার সময় ও হয়রানি কমবে।

রাজউকের চেয়ারম্যান আমিন উল্লাহ নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্বর্ণা কাজী, রাজউকের সদস্য (ডেভেলপমেন্ট) মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী শামসুদ্দীন আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই সিস্টেমে সব অনলাইনের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতারা সব সেবা ঘরে বসে পাবেন। তার ফাইলের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই প্রকল্পের অধীনে বর্তমানে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) এবং নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় বাংলাদেশ ভূমিকম্পের বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে। যার কারণে রাজউক কর্তৃক পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে দেশের দুর্যোগকালীন সহনক্ষমতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন নির্মাণের গুণগত মান উন্নয়ন করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প কাজ করবে। এছাড়া প্রকল্পটির আওতায় মহাখালীতে একটি অত্যাধুনিক ১০ তলাবিশিষ্ট ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। যার জন্য আধুনিক বিভিন্ন ফিল্ড ও ল্যাবরেটরি টেস্টিং যন্ত্রপাতিও ক্রয় করা হয়েছে। প্রকল্পটির অধীনে আরবান রেজিলিয়েন্স ইউনিট গঠন ও পরিচালনা করা, প্রকৌশলী ও স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদগণের অ্যাক্রিডিটেশন প্রোগ্রাম পরিচালনা করা, ডিএমডিপি এলাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং বিএনবিসি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে সহায়তা করা নিশ্চিত করা হবে।