উত্তরের হিমেল হাওয়ার দাপটে বেড়েছে শীতের তীব্রতা| প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে শীত নেমেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিবিড় পল্লীতেও| ভোরের ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভোরে কিংবা খুব সকালে ওঠা মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম| পুব আকাশে কেবল উঁকি মারতে শুরু করেছে রক্তিম সূর্য| ক্যাম্পাস একেবারেই কোলাহলমুক্ত| সেই সঙ্গে পাখির কিচিরমিচির ধ্বনিতে মন জুড়িয়ে যায়|
শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ইবিতে অতিথি পাখির আগমন প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম| প্রতি বছর হাজারো পাখির নয়া আমেজে নয়া আনন্দমেলা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে| পাখিদের কলকাকলিতে ১৭৫ একরের সবুজ ক্যাম্পাস হয়ে উঠে আরো প্রাণবন্ত| এবারও তার ব্যতিক্রম নয়| রীতিমতো ক্যাম্পাসের পাখিপ্রেমীদের মনে সাড়া জাগিয়ে দিয়েছে এরা| আর অতিথি পাখিকে ঘিরেই যেন সব আনন্দের উৎসব|
আর তাই মফিজ লেকের হাজারো পাখপাখালির এমন নিবিড় আত্মার আত্মীয় ভাবাপন্ন আপন করা মায়াবী জালে আটকা পড়ে হাজারো অতিথি পাখি| আর এ মায়ার টানে তাই ফিরে আসে প্রতি বছরই হাজারো মাইল দূর দেশের পরবাসী অতিথি পাখি| আমাদের অতিথি হলেও তারা মূলত আসে জীবন বাঁচাতে|
শত শত শুভ্র বক, বুনো শালিকের দল, টিয়ে, ময়না, ফিঙে, মাছরাঙা, সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুঁনতে হাঁস, বালি হাঁস, মানিকজোড়সহ হাজারো অতিথি পাখির ডুবসাঁতারে তৈরি হয় এক নতুন ফটো অ্যালবাম| যে অ্যালবামজুড়ে থাকে পাখিদের ডুব-ডুব লুকোচুরি, খুঁনসুটি| অনেক কষ্টে একটি পুঁটি শিকারের পর গলধঃকরণ পরবর্তী মাছরাঙার পানি শুকানোর ডানা ঝাপটা|
নাম না জানা নানা বর্ণ আর আকারের এই পাখিগুলো সূর্যি্য মামা পূর্বাকাশে উঁকি দেওয়ার পূর্ব মুহূর্তে আসে ক্যাম্পাসের পুকুর ও লেক এলাকায়| কলকল ধ্বনিতে ঘুমিয়ে থাকা ক্যাম্পাসকে জাগিয়ে তোলে| যেন এ নৈসর্গিক আবহাওয়া| সকালে কলকল ধ্বনি ও গোধূলি শেষে যখন সূর্য ডুবুডুবু অবস্হা, ঠিক তখন মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় এসব পাখি| উড়ে গিয়ে বসে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গাছের ডালপালায়| রাতের বেলা স্হান নেয় ক্যাম্পাসেই| সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা যায় সকাল-বিকাল বিশ্ববিদ্যালয় পুকুর ও লেকসংলগ্ন এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড়|
শীতের তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে অতিথি পাখিরা চলে যায় তুলনামূলক যে দেশে শীত কম| তাছাড়া তীব্র শীতে শীতপ্রধান দেশে খাবারেরও অভাব দেখা যায়| অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে থাকে| সেই সঙ্গে রয়েছে তুষারপাত| জন্মাতেও পারে না কোনো গাছপালা| সব মিলিয়ে পাখিদের থাকা ও খাবার সংগ্রহ করা তুলনামূলক অনেক কঠিন হয়ে পড়ে| এসব পাখি আসে উত্তর মেরু, সাইবেরিয়া ইউরোপ, এশিয়ার কিছু অঞ্চল ও হিমালয়ের আশপাশের কিছু এলাকা থেকে|
পরিবেশবিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিপুল রায় বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসে অতিথি পাখির আগমন একটি গর্বের বিষয়| আমাদের উচিত তাদের জন্য আবাসস্হলগুলোর সুরক্ষা দেওয়া| আবাসস্হলগুলো যেন কেউ বিনষ্ট করতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের রক্ষা করা উচিত| পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ও সচেতন হতে হবে| পাখিদের যেন কেউ ক্ষতি না করে|’