ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াবে

নেপালের ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা। গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ আশঙ্ক প্রকাশ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ত্রাণ তত্পরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি বিদেশী সাহায্য দাতাদের কাছে তাঁবু ও ওষুধ সরবরাহের আবেদন জানান।

 
সাক্ষাত্কারে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো উদ্ধার ও ত্রাণ তত্পরতা চালাতে সরকার সবকিছুই করছে। নেপালের জন্য এটি খুব কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং একটি সময়।’ দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালযের এক কর্মকর্তা নিহতের সর্বশেষ সংখ্যা ৪ হাজার ৩৪৯ জন বলে জানিয়েছেন। এই সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছে গেলে তা ১৯৩৪ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে সংঘটিত হওয়া ক্ষয়ক্ষতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। সেই ভূমিকম্পে ৮ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত ওই ভূমিকম্পই ছিল নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
 

গত শনিবার ৭ দশমিক ৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পের সময় কৈরালা বিদেশে ছিলেন। পরদিন রোববার তিনি দেশে ফিরেন। দেশে ফিরেই তিনি ত্রাণ তত্পরতা জোরদার ও তত্পরতা সমন্বয়ের নির্দেশ দেন। এছাড়া বিদেশী সাহায্যের আবেদন জানিয়ে কৈরালা বলেন, নেপালের তাঁবু ও ওষুধ দরকার। ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ      বাইরে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে, এছাড়া ডজনখানেক আফটার শক বা পরাঘাতের কারণে অনেকে বাড়িতে থাকতে ভয় পাচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘খোলা আকাশের নীচে মানুষ বৃষ্টির মধ্যে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে।  ৭ হাজারের বেশি লোক আহত হয়ে আছে। তাদের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে।’