আসাম রাজ্যকে আপাতত বাদ দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই খণ্ডিত বিল কংগ্রেস সমর্থন করবে না বলে জানানোর পর নতুন এই জটিলতার সৃষ্টি। এ কারণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাক্ষিত ঢাকা সফরও পিছিয়ে যেতে পারে। নরেন্দ্র মোদী চাইছিলেন, এই বিল পাসের পর জুন মাসে বাংলাদেশ সফরে আসতে।
গত বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আসামকে বাদ রেখেই রাজ্যসভায় বিলটি উত্থাপনের। সংসদীয় মন্ত্রী ভেঙ্কাইয়া নাইডু জানান, আগামী ৫ মে’র পরে রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিলটি উত্থাপন করা হবে। আপাতত পশ্চিমবঙ্গ-ত্রিপুরা-মেঘালয়ের সীমান্ত চিহ্নিতকরণ এবং ছিটমহলগুলো বিনিময় হবে। কিন্তু আসামকে বাদ দিয়ে এই বিল আনা হলে কংগ্রেস তাতে সমর্থন দিতে রাজি নয়। কংগ্রেসের বক্তব্য, তারা খণ্ডিত বিল সমর্থন করবে না। এ জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিল উত্থাপন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনো আপত্তি নেই। পার্লামেন্টে বিলটি পাস করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন।
আসাম বিজেপির আপত্তির কারণে নরেন্দ্র মোদীর সরকার পূর্ণ চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে আসায় বেঁকে বসছে কংগ্রেস। কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব এ নিয়ে সহসাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। যদিও রাজ্যসভার বিরোধী নেতা কংগ্রেসের গোলাম নবী আজাদ ও উপ নেতা আনন্দ শর্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে জানিয়েছেন, আসামকে বাদ রেখে বিলটি পাস করানোর চেষ্টা হলে তারা বিরোধিতা করবেন।
জানা যায়, ২০১৬ সালে আসাম বিধানসভা নির্বাচনে জয় পেতে রাজ্যের বিজেপি নেতাদের চাপে আসামকে বাদ দিয়েই সংবিধান সংশোধন বিল চূড়ান্ত করা হয়। আসাম থেকে লোকসভার নির্বাচিত কংগ্রেস এমপি গৌরব গগৈ বলেছেন, ১৯৭৪ সালের সীমান্ত চুক্তি ও ২০১১ সালের প্রটোকল পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই আমরা। যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বা সংশোধন মানা হবে না।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ঢাকা ও নয়াদিল্লির কর্মকর্তারা মে মাসের শুরুতে ভারতের পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধন বিল পাসের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঢাকা সফরের দিনক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করার কথা। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই সফর হওয়ার প্রস্তুতিও ছিলো। কারণ প্রধানমন্ত্রী মোদী খালি হাতে বাংলাদেশে আসতে চান না। তিনি সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের সুখবর নিয়ে ঢাকা সফরে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু হঠাত্ করে আসামকে বাদ দেয়া ও কংগ্রেসের আপত্তিতে সৃষ্ট জটিলতায় তার সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিল।
এদিকে আসামকে বাদ রেখে চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে ঢাকাকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নয়াদিল্লি কিছুই জানায়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম সম্প্রতি গণমাধ্যকে এ কথা জানান।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে অপদখলীয় জমি হস্তান্তর, ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় ও সাড়ে ৬ কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা চিহ্নিত করা হবে। ছিটমহলগুলোর মধ্যে ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি (৭১১০ একর জমি) এবং বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি (১৭১৬০ একর) জমি বিনিময় হবে। অপদখলীয় জমির মধ্যে মেঘালয়, ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অধীন সীমান্তে ২০০০ একর জমি এবং আসামের ২৬৮ একর জমির অধিকারী হবে বাংলাদেশ।