অন্টারিও প্রাইমারি স্কুলে চলছে প্রতিবাদী ধর্মঘট

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের প্রাইমারি স্কুলে আজ সোমবার থেকে চলছে ছাত্র এবং অভিবাবকদের প্রতিবাদী ধর্মঘট। কানাডার শিক্ষা নীতি ২০১৫তে যুক্ত হয়েছে শিশুদের যৌন শিক্ষা দেয়ার নীতিমালা, যেখানে গ্রেড-১ (৬বছর) থেকে গ্রেড-৮ (১৪বছর) এর শিশুরা ক্লাসে যৌন শিক্ষা গ্রহণ করবে। 
 
যার প্রতিবাদে সিংহ ভাগ অভিভাবকেরা তাদের ছেলেময়েকে ক্লাশে পাঠাননি। এই ধর্মঘট চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত। একটি বিশাল অংশ প্রদেশের নতুন যৌন শিক্ষা পাঠ্যক্রম প্রতিবাদে অনেক আগে থেকেই ধর্মঘটে নেমেছেন, এই সপ্তাহে স্কুলে যাওয়া তাদের বাচ্চাদের স্কুলে না পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় ব্যানার ফেস্টুন হাতে প্রতিবাদে নেমেছেন। ফেইসবুক গ্রুপ "Parents & Students on strike: one week no school" এক সপ্তাহ কোন স্কুল না" বাড়ীতে তাদের বাচ্চাদের রাখার জন্য অনুরোধ করেছেন। ২০১৫ সেক্স - এড পাঠ্যক্রম বিরোধিতাকারী পিতামাতারা এই বিষয়ে সর্বস্তরে প্রচার চালিয়ে এখন অনড় অবস্থায় রয়েছে।
 
উল্লেখ্য,  ২৪৪ পৃষ্টার সেই শিক্ষানীতিতে এক নজরে বলা যায়, গ্রেড-১ অর্থাৎ বয়স ৬ বৎসর হলে ক্লাসের বাচ্চাদের যৌনাঙ্গ সম্পর্কে ধারনা দেয়া হবে। ছবির মাধ্যমে প্রদর্শন করা হবে পুরুষ এবং নারীদের যৌনাঙ্গ। 
গ্রেড-৩, বয়স ৮ বৎসর হলে যৌনতা নির্ণয়ের পাঠদানে বাচ্চাদের যৌন সম্পর্কিত শিক্ষা প্রদান করা হবে, যাতে একজন ছেলে শিশু একজন মেয়ে শিশুর পার্থক্য বুঝতে পারে। এ পর্যায়ে শিশুদের সমকাম সম্পর্কেও ধারনা দেয়া হবে যাতে তারা বড় হয়ে ব্যাপারগুলোকে সহজভাবে নিতে পারে। 
 
গ্রেড-৪, বয়স ৮ বৎসর হলে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে যে বন্ধুত্বের বেশি কিছু হতে পারে সে সম্পর্কে শিক্ষা দেয়া হবে যাতে তাদের মধ্যে রোমান্টিকতা জন্মায়। 
 
গ্রেড-৬, বয়স ১২ বৎসর হলে হস্তমৈথুন্য সম্পর্কিত শিক্ষা দেয়া হবে। 
 
গ্রেড-৭, বয়স ১৩ বৎসর হলে শিশুদের পায়ুকাম এবং মুখমৈথুন্য সম্পর্কিত শিক্ষা দেয়া হবে। 
 
গ্রেড-৮, ১৪ বৎসর বয়সে যৌনতা সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনা সম্পর্কিত শিক্ষা দেয়া হবে।
 
টরন্টো জেলা স্কুল বোর্ডের মুখপাত্র শোয়ার্জ বলেছেন, ‘‘ঠিক কতজন এই পাঠ্যক্রমের বিরোধিতা করছে তা এখন বোঝা কঠিন। এই শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে শিশুরা স্কুলে না আসলে শিশুদেরই ক্ষতি হবে, ক্ষতি হবে পরিবারেরই।’ তিনি আরো বলেন, কিছু ভুল তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচারিত করা হচ্ছে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে বাস করি এবং জনগণের প্রতিবাদ এবং মতামত প্রকাশের সম্পূর্ণ অধিকার আছে।' কিন্তু তিনি কোনোভাবেই চান না বাচ্চারা স্কুল কামাই করুক।’’
 
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যতই বলা হোক পাঠ্যক্রমে আলোচিত যৌন শিক্ষা যোগ হলে শিশু নির্যাতনসহ Child Sexual Abuse এর ব্যাপারটি নির্মূল হবে এবং যৌন সংক্রামক ব্যাধি কমে আসবে। কিন্তু অভিবাবকেরা প্রতিবাদ করে বলেছেন, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।  এ বয়সের ছেলে মেয়েরা যখন যৌনতা সম্পর্কে পাঠ্যক্রমের আরোহিত জ্ঞানে অত্যাধিক পরিমাণে আগ্রহী হয়ে পড়বে তখন যৌনতাকে পুতুল খেলার পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসবে।