বাংলাদেশ সফরকালে মৌলবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার একান্ত আলোচনাতেও এ বিষয়টি অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছে বলে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন বাংলাদেশ সফরের আগে নয়াদিল্লিতে ভারতের সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে মোদী জানান, সামপ্রদায়িকতাকে কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। উন্নয়নের মাধ্যমে উগ্র মৌলবাদীদের বিচ্ছিন্ন করতে হবে। একই বার্তা নিয়ে তিনি শনিবার ঢাকা সফরে যাচ্ছেন। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মঞ্চেও বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে এই বার্তা দিতে চান নরেন্দ্র মোদী।
বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে তিন ব্লগার হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে দফায় দফায় চলছে বিএনপি ও তার জোট শরিক জামায়াতে ইসলামির তাণ্ডব এবং পেট্রোল বোমা হামলা। এমনই এক সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসছেন নরেন্দ্র মোদী। মৌলবাদের বিরুদ্ধে বার্তা দেয়ার পাশাপাশি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে মৌলবাদের উপস্থিতি ও সহিংসতা ভারতের কাছে অত্যন্ত উদ্বেগের। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঢাকার সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায় নয়াদিল্লি। এ ব্যাপারে ভারতের স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর প্রথম বাংলাদেশ সফরে এ বিষয়ে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ চোখে পড়তে পারে।
নয়াদিল্লি বরাবর স্বীকার করেছে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। বাংলাদেশের মাটিতে ভারত-বিরোধী সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলি একে একে নির্মূল করেছে ঢাকা। এ ব্যাপারে একসঙ্গে চলে যে লাভ হয়েছে, তাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় দিল্লি।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে ‘সন্ত্রাস-বিরোধী চুক্তি’ সই হওয়ার কথা। ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) এবং বাংলাদেশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা এই চুক্তি করবেন। একই সঙ্গে দুই দেশের উপকূলবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনেও দুই দেশ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া পাকিস্তান থেকে আসা জাল নোটের পাচার ঠেকাতেও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতাপত্র সই হওয়ার কথা।
এক ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, শুধু দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার জন্যই আমরা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি চাইছি, তা নয়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যও এটা জরুরি। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এই সামগ্রিক বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পেতে চলেছে।
উলফা নেতা অনুপ চেটিয়ার হস্তান্তরের প্রসঙ্গটিও আলোচনায় উঠছে বলে জানা গেছে। নয়াদিল্লি আশা করছে, চেটিয়াকে ভারতে পাঠানোর বিষয়ে একটি ঘোষণা মোদীর সঙ্গে বৈঠকের পর করতে পারে ঢাকা। দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তির পর উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তার ফলশ্রুতি হিসেবে চেটিয়াকে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হতে পারে।
ঢাকায় ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন না মোদী
এদিকে পশ্চিমবঙ্গের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দুই দিনের সফরে ঢাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাত্ করবেন না নরেন্দ্র মোদী। যদিও এর আগে বিদেশ সফরে মোদী আলাদা করে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন।
এ বিষয়ে একটি রাজনৈতিক সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেন, বাংলাদেশ খুবই সংবেদনশীল। আমরা এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই না যাতে করে সামাজিক উত্তেজনা বাড়ে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাংলাভাষী হিন্দুদের সঙ্গে তিনি সাক্ষাত্ করবেন না।