ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মনিপুরে গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে ১৮ সেনাসদস্য হত্যার পাল্টা জবাব হিসাবে সেখানে বিদ্রোহবিরোধী অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে আঞ্চলিক বিদ্রোহী সংগঠন ন্যাশনালিস্ট সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ড (এনএসসিএন) ও ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)।
হামলার সঙ্গে যুক্ত বিদ্রোহীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের নির্মূল করার জন্য ভারত সরকার শুক্রবার সেনাবাহিনীকে একটি অভিযান শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া বিদ্রোহীরা যাতে পার্শ্ববতী দেশে পালিয়ে না যেতে পারে সেজন্য ইতোমধ্যেই মনিপুর রাজ্যের ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পরিকর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের মধ্যে এক বৈঠকের পর ওই অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকে সেনাপ্রধান দলবীর সিং এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এনএসসিএন ও উলফার পক্ষ থেকে ১৮ সেনাসদস্যকে হত্যার দায় স্বীকার করা হয়। সংগঠন দুটি বলেছে, যৌথ পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, সেনাবাহিনীর ডোগরা কমান্ডের ছয়টি গাড়ি রাজ্যটির সীমান্তবর্তী সেনাঘাঁটি মৌতুল থেকে রাজধানী ইম্ফলে যাওয়ার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রকেট লঞ্চার, গ্রেনেডসহ ভয়ঙ্কর অস্ত্রে সজ্জিত বিদ্রোহীরা অতর্কিতে হামলা চালায়। তাদের ছুঁড়ে মারা গ্রেনেডের আঘাতে বেশ কয়েকজন সেনাসদস্যের দেহ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে কারগিল যুদ্ধের পর এই প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনী এত বড় হতাহতের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এর আগে গত বুধবার মণিপুর-মিয়ানমার সীমান্তে উখরুল জেলাতেও হামলা চালিয়েছিল বিদ্রোহীরা। ওই হামলায় প্রাণ হারায় তিন সেনা। উল্লেখ্য, মিয়ানমার ও মণিপুরের মাঝে প্রায় ৩৯৮ কিলোমিটার অসংরক্ষিত সীমানা রয়েছে। এই অসংরক্ষিত এলাকা কমপক্ষে ৪০টি বিদ্রোহী গ্রুপের ঘাঁটি রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি গ্রুপের সঙ্গে মনিপুর রাজ্য ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাকি গ্রুপগুলো ওই এলাকায় নিজেদের একটি আলাদা দেশসহ বিভিন্ন দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। খবর এনডিটিভির।