ভারতের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলী অংশীদার বাংলাদেশ হলেও ভারতের গণমাধ্যমে দ্বিপাক্ষিকতা খুব একটা জায়গা করে নিতে পারেনি। ভারতের সংবিধান সংশোধন করে ইন্দিরা-মুজিবের স্বাক্ষর করা স্থল সীমান্ত চুক্তির অনুমোদন দুই দেশের সম্পর্কের মাইলফলক হলেও ভারতের গণমাধ্যমের দৃষ্টিগোচর খুব একটা না হওয়াই সম্পর্কের রূপকার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি স্থল সীমান্ত চুক্তিকে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যেকার বার্লিন দেয়ালের সাথে তুলনা করে চুক্তির মনস্তাত্ত্বিক গুরুত্ব অনুধাবন করার আহ্বান জানান। চির বৈরী পাকিস্তানের বিষয়ে ভারতের গণমাধ্যম বরাবরই বেশি উচ্ছ্বসিত, ভারত ঘিরে থাকা অন্য প্রতিবেশীদের বেলায় উদাসিনতা চোখে পড়ার মত। বাংলাদেশে দেখা যায় উল্টো ধারা। ভারত ইস্যুতে বাংলাদেশ রাজনীতি যেমন সরব সেই সাথে মানুষের চিন্তা-চেতনায় ভারতের হাব-ভাব বেশ অনেক জায়গা জুড়ে থাকে। সমুদ্র সীমার পর স্থল সীমানা চুক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত বিরোধী ধারাকে ডিগবাজি দিতে বাধ্য করেছে। বৈশ্বিক রাজনীতির স্রোতকে নতুন গতি দিতে চলেছে দুই দেশের একসাথে চলা থেকে উদিত আঞ্চলিক সংহতি। নিরাপত্তা ও অর্থনীতি চলমান কূটনীতির নতুন স্তম্ভ হলেও বাণিজ্য ও বাজার গুরুত্বের শীর্ষে। দারিদ্র্য বিমোচন ও মানুষের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন একই রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যে রূপান্তরিত হয়ে মোদী ও হাসিনার বাণিজ্য বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার আঞ্চলিক কৌশল বিশ্ব বাজারে পরাশক্তির পীড়ন এড়াতে শক্ত প্রাচীর বিনির্মাণের সূচনা করবে। ভারত-বাংলাদেশ আন্তরিক সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শুধু জোট বাঁধতে নতুন উত্সাহ জোগাবে না দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে ভৌত যোগাযোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবে। বাড়াবে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নের সে াতধারা। ঘটবে জীবন যাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন যাত্রা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার সৃষ্ট আস্থা ও বিশ্বাস এবং অমীমাংসিত বিষয়ের শান্তিপূর্ণ ও সার্বজনীন গ্রহণযোগ্য সুরাহার নিদর্শন অন্যান্য দেশের জন্য অনুকরণীয় উত্সাহে পরিণত হবে অচিরেই। স্থল সীমান্ত ও সমুদ্র সীমা নির্ধারণে দুই দেশের সার্থক ভূমিকা বিরোধ নিষ্পন্নের উদাহরণ হয়ে গেছে। এখন দুই দেশ এগিয়ে চলেছে দিপাক্ষিক রেল, সড়ক ও আভ্যন্তরীণ নদী যোগাযোগ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুত্ নেটওয়ার্ক স্থাপন করে আরেকটি নজির সৃষ্টিতে। যাত্রার শুরুতেই যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়ে যাচ্ছে নেপাল ও ভুটানে। দিপাক্ষিক উপকূলীয় যোগাযোগ বাণিজ্যিক চলাচল সাশ্রয়ী ও সহজ করবে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বন্দর সুবিধা নেপাল, ভুটান ও উত্তর-পূর্ব ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন করবে শীঘ্র। আঞ্চলিক বাণিজ্য অনেক গুণ বাড়বে, লাভবান হবে অর্থনীতি। পণ্য চলাচলের সাথে মানুষের চলাচল সহজ হবে, বাধার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক সীমানা যোগাযোগের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হবে। জ্বালানি সহযোগিতা আন্তঃদেশীয় চাহিদাকে ভারসাম্য দেবে। উত্তর-পূর্ব ভারতসহ নেপাল ও ভুটানের জল বিদ্যুত্ উত্পাদনের সম্ভাবনা ও সুবিধাজনক বিপণন আঞ্চলিক বিদ্যুত্ নিরাপত্তা সৃষ্টি করবে। আন্তঃদেশীয় নদীর পানির ন্যায্য ভাগাভাগির ঐকান্তিকতা আচিরেই সুরাহা বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর অঞ্চলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলবে। হাসিনা-মোদী বৈঠক থেকে উত্থিত হবে আঞ্চলিক সম্ভাবনার কৌশল। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সহযোগিতাকে টেকসয় রূপ দেবে।
১৯৭১-এর মুক্তি যুদ্ধের মধ্যদিয়ে দুই দেশের মানুষের বন্ধন ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির জনককে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্যদিয়ে ভেঙ্গে পড়ে। দেশকে পাকিস্তানি আদলে ফেরত নেবার কৌশলে পরবর্তী সরকারগুলোর মধ্যে পীড়নমূলক প্রতিবেশী নীতি অনুসরণ করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের দুই প্রতিবেশী ভারত ও মিয়ানমারের সাথে অনাস্থা ও অবিশ্বাস জন্ম নিতে থাকে প্রবলভাবে। বাংলাদেশ প্রতিবেশী নিরাপত্তার জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ভারত বৈরিতাকে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অনুকম্পা কুড়াতে পাকিস্তান কৌশল হিসাবে ব্যবহার করে। স্নায়ু যুদ্ধের সময় সোভিয়েতের বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধে সমর্থন ও ভারত বিরোধী মোরচার নায়ক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুকম্পার উপর বেশি ঝুঁকে পড়ে। অর্থনীতি অনুকম্পা নির্ভর হয়ে পড়ে ও ধর্মীয় জঙ্গিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তরিত হয়ে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। রাষ্ট্র বহির্ভূত উগ্রবাদী শক্তির পৃষ্টপোষক হয়ে ভারত ও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার কৌশল নেয়। বাংলাদেশের সরকারগুলো অপচেষ্টার বিপক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেবার বদলে কৌশলী মদদদাতা হয়ে দাঁড়ায়। ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি আবার নতুন করে দুই প্রতিবেশী দেশকে নিয়ে এসেছে আস্থা ও বিশ্বাসের বৃত্তে। পেছনে নিঃসন্দেহে কাজ করেছে হাসিনা ও মোদীর প্রজ্ঞা, ঐকান্তিকতা ও উদ্যোগ।
ক্ষমতা আরোহণের দিন মোদীর “প্রতিবেশী আগে” বিদেশ নীতির ডাকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সরকার প্রধানের উপস্থিতি বিস্ময়কর পরিবেশ তৈরি করলেও জাপান সফরের কারণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার অনুপস্থিতি অনুষ্ঠানের পূর্ণতা আনতে পারেনি। ভারতের বিদেশ নীতির সম্পূরক হিসাবে বাংলদেশের গুরুত্ব তখন থেকেই অনুমিত হয়।
বিশ্ব সমীকরণে এশিয়ার ভূমিকা বেড়েই চলেছে। অর্থনীতির স্নায়ুকেন্দ্র স্থানচ্যুত হয়ে এশিয়ার দিকে ক্রমেই সরে যাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোর উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ছে সাথে বাড়ছে কাঁচামাল ও জ্বালানির চাহিদা। জ্বালানি, কাঁচামাল ও পণ্য চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো ভারত মহাসাগরে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে। ভারত মহাসাগরের নিয়ন্ত্রকই হবে ভবিষ্যতের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক। ভারত মহাসাগরের আধিপত্য নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা দুটোই বাড়তির দিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের অভিলাস স্পষ্ট হলেও পারস্পরিক অর্থনৈতিক নির্ভরতা সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে কমিয়ে রেখেছে। ভারত-চীনের নৌশক্তির প্রতিযোগিতা চোখের পড়ার মতো।
ভারত মহাসাগরের বিশালতা সীমাবদ্ধ করেছে একক শক্তির নিয়ন্ত্রণের সুবিধাকে। যুক্তরাষ্ট্র মহাসাগর নিয়ন্ত্রণের অংশীদার হিসাবে চীনকে বাদ রেখে ভারতকে বেছে নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ গড়ে তোলার কৌশল নিয়েছে। তেল সমৃদ্ধ পশ্চিম এশিয়া থেকে চীন, জাপান, কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সাগর পথগুলো ভারত মহাসাগরে অবস্থিত বিধায় গুরুত্বকে করেছে অনন্য। একদিকে জ্বালানির নিরাপদ সরবরাহ এবং অপরদিকে পণ্য ইউরোপ ও আফ্রিকার বিপণনের প্রয়োজনীয়তা। ভারত মহাসাগরে নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলচল সংশ্লিষ্ট সব দেশের জন্য অপরিহার্য। ভারতের ভূ-খণ্ডগত নৈকট্য ঠেকাতে চীন উপকূলীয় ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সাথে সখ্যতা করে করায়ত্ত কৌশল অনেক আগে থেকেই নিয়েছে। আর্থিক সহায়তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করে সখ্যতার আড়ালে সামরিক সম্পর্ককে গাঢ় করার চেষ্টা লুকিয়ে আছে। প্রাচীন সিল্ক রুট পুনঃস্থাপনের নামে নতুন উদ্যোগ ভারত মহাসাগর কেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল। শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ চীনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে হামবানটোটায় ও আরব সাগরে পাকিস্তানের গোয়াদরে বন্দর তৈরি করে পারস্য উপসাগর ও ভারত মহাসাগর নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে। মিয়ানমারের কোকো দ্বীপেও বন্দর তৈরি করছে।
ভারত মহাসাগরের উপকূলীয় দেশগুলো পরাশক্তি ও আঞ্চলিক শক্তির টানাটানিতে খাবি খাচ্ছে। সাথে যুক্ত হয়েছে জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মত মধ্যমানের শক্তিগুলো। ভারত মহাসাগর উপকূলে সর্ব বৃহত্ ভূ-খণ্ড নিয়ে আছে ভারত। ভারত ঘিরে থাকা উপকূলীয় ছোট ভূ-খণ্ডের দেশগুলোর সাগর সংযোগের উপর স্বাভাবিক প্রভাব ভিন দেশি নিয়ন্ত্রণের বড় বাধা হিসাবেই চিহ্নিত। ভারত উপমহাদেশের দেশগুলো অর্থনীতি ও নিরাপত্তার একই বৃত্তে থাকলে ভবিষ্যতের ভারত মহাসাগরের নিয়ন্ত্রক হবে সেটা এখন সবাই বিশ্বাস করে। ভারত মহাসাগরের বিশালতা যুক্তরাষ্ট্রের মত পরাশক্তির একক নিয়ন্ত্রণের ভাবনা বাস্তবতা বিবর্জিত। ভারতের ভূ-খণ্ডগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কৌশলী অংশীদার বানিয়ে সাথে অস্ট্রেলিয়া, জাপানকে রেখে ভারত মহাসাগরের যুক্ত নিয়ন্ত্রক হতে চায়। ভারত মহাসাগর থেকে দূরত্ব চীনকে সুবিধা বঞ্চিত করেছে। অঞ্চলে সমুদ্রে টিকে থাকার উপযোগী নীল পানির নৌবাহিনী গড়ার চেষ্টা লক্ষণীয়। বিমানবাহী রণতরী ও রণতরী বিধ্বংসী কৌশলী অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে উঠছে।
কিন্তু ভারত ও চীনের বিদেশ নীতি উল্টো ধারায় দেখা যাচ্ছে। মোদীর লক্ষ্য বিশ্বের পরিচালন সিদ্ধান্তে ভারতের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা। তার জন্য শক্তির আধার বাড়ানো ও বহির্মুখী করা জরুরি। এককভাবে এগুনোর চেয়ে ভারত আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে নিয়ে শক্তির সমীকরণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রবেশ করতে চাইছে। “প্রতিবেশী আগে” নীতি আঞ্চলিক দেশগুলোকে একীভূত করার কৌশল। মোদী দক্ষিণ এশিয়াকে আস্থা ও বিশ্বাস দিয়ে বাঁধতে চাচ্ছে একদিকে অপরদিকে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জগুলোর কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছে। চীন তার প্রতিবেশী ও আশেপাশের দেশগুলোর দিকে আস্থা ও বিশ্বাসের পরিবর্তে পীড়ন নীতি অনুসরণ করায় সবাই শঙ্কিত হয়ে শক্তির ভারসাম্য গড়তে ভারতকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে। দক্ষিণ চীন সাগরে একচ্ছত্র দখলদারিত্ব দাবি করায় সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র মাথা গলাতে এগিয়ে আসছে ফলে আস্থার সংকটে থাকা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ভারতমুখিতা বেড়েই চলেছে। চীনের “ফার সি ডিফেন্স” আগ্রাসী নীতির কারণে ভিয়েতনাম, কোরিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান এমনকি অস্ট্রেলিয়া নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছে। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শক্তির নতুন মেরুকরণ ঘটছে যদিও অর্থনীতির পারস্পরিক নির্ভরতা বর্ধিষ্ণু চীনকে বাদ দিয়ে যাচ্ছে না।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর মত বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে চীনের বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সামরিক সম্পর্ক একইভাবে চলমান রয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের সাথে চীনের সম্পর্ক ভারসাম্যপূর্ণ। অদূর ভবিষ্যতে চিড় ধরার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে ভারত মহাসাগরের সাথে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-খণ্ডগত নৈকট্যের কৌশলী সুবিধার বিকাশের সাথে বাংলাদেশ বিযুক্ত হবে না। মোদীর বাংলাদেশ সফর “প্রতিবেশী আগে” নীতির প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিবে। দ্বিপাক্ষিকতার বেড়া অতিক্রম করে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী নতুন আঞ্চলিক অবয়বের প্রতিচ্ছবি আঁকবেন বলে সফরটি অধিক গুরুত্ব বহন করছে।
লেখক :স্ট্র্যাটেজি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক। ইন্সটিটিউট অফ কনফ্লিক্ট, ল’ এন্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস (আই ক্ল্যডস) এর নির্বাহী পরিচালক।