১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি)। এর ফলে দেশটিতে এককভাবে সরকার গঠনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেন দলটির নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ান।
তুরস্কের ৫৫০ আসনবিশিষ্ট পার্লামেন্টে সরকার গঠন করতে হলে ২৭৬টি আসনের প্রয়োজন। এবার পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ায় সরকার গঠনে জোট করতে হবে একেপি’কে।
অপরদিকে, ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে কুর্দিপন্থী দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পাটির (এইচডিপি) বিস্ময়কর উত্থান হয়েছে।
গত রবিবার অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়িপ এরদোয়ানের একেপি পার্টি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৫৮টি আসনে জয়লাভ করেছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাকি দলগুলোর মধ্যে রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি) পেয়েছে ১৩২টি আসন। ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) পেয়েছে ৮১টি আসন।
পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে হতে পারে, একেপি পার্টির মধ্যে এ ধরনের কোনো শঙ্কাই ছিল না। সর্বশেষ ২০১১ সালের নির্বাচনেও ৩১১টি আসন লাভ করেছিল দলটি।
২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মধ্য দিয়ে তুরস্কের ক্ষমতায় আসা এরদোয়ান ১৩ বছরের ক্ষমতাকালে এ রকম পরিস্থিতিতে আর কখনো পড়েননি।
এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে তুরস্কের সংবিধান পরিবর্তন করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন প্রবর্তন করতে চেয়েছিলেন এরদোয়ান। কিন্তু নির্বাচনের অপ্রত্যাশিত ফলাফলে তার পরিকল্পনা বড় ধরনের একটি ধাক্কা খেল। এরদোয়ানের প্রস্তাবনাটি পাস করতে পার্লামেন্টে ৩৩০টি ভোটের প্রয়োজন হবে।
ইতোমধ্যে এরদোয়ানের এই পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে অপর তিনটি প্রধান দল।
নির্বাচনের এই ফলাফলে একে পার্টির সমর্থকদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু এই ফলাফল মেনে নিয়েছেন। নিজের শহর কোনিয়া থেকে রাজধানী আঙ্কারার উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার সময় তিনি বলেছেন, ‘জনগণের সিদ্ধান্তই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।’
অপরদিকে, এইচডিপি’র চিত্র এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এই প্রথম একক দল হিসেবে নির্বাচন করলো দলটি। ১০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল দলটি আর অর্জন করেছে ১৩ শতাংশ ভোট। এতে পার্লামেন্টে ৭৯টি আসন পাওয়ার মধ্য দিয়ে তুরস্কের জাতীয় পর্যায়ে সংখ্যালঘু কুর্দিদের সরব উপস্থিতির সুযোগ তৈরি হল।
এইচডিপি শুধু কুর্দিদের বিষয়েই সরব না, এরদোয়ানবিরোধী বামপন্থী এই দলটি সম-অধিকার ও পরিবেশ নিয়েও সরব। এইচডিপি এই সাফল্য তুরস্কের রাজনীতিতে একটি নতুন যুগ শুরু করতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। সূত্র:আল জাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স