ওমরকে ‘খলিফার সৈনিক’ ঘোষণা দিল আইএস

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার একটি নাইট ক্লাবে হামলার দায় স্বীকার করা ইসলামিক স্টেট (আইএস) একটি রেডিও বুলেটিনে হামলাকারী ওমর মতিনকে ‘খলিফার সৈনিক’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। আইএস বলেছে ওমর যে ‘মহান’ কাজ করেছে তাতে এই ‘বিরল সম্মান’ তার প্রাপ্য। যারা অনেক বড় অবদান রাখে কেবল তাদেরকে এই ‘সম্মান’ দেয় আইএস।
 
শুরু থেকেই নাইটক্লাবের ঘটনায় মার্কিন পুলিশের সন্দেহের তির ছিল আইএসের দিকে। অরল্যান্ডো পুলিশের দাবি, নাইটক্লবে হামলার আগে ৯১১ নম্বরে ফোন করে মতিন জানায় সে আইএসের অনুগত।  গত ২১ মে আইএসের মুখপাত্র আবু মহাম্মদ অল আদনানি আমেরিকা এবং ইউরোপে হামলার ডাক দিয়েছিল। তবে ঘটনার চব্বিশ ঘণ্টা পর আইএস হামলার দায় স্বীকার করায় মার্কিন গোয়েন্দাদের আশঙ্কাই ঠিক প্রমাণ হল। এক অডিও টেপে আদনানিকে বলতে শোনা যায়, তোমরা বাড়িতেই থাকো। অন্যথায় ভয়াবহ হামলার জন্য অপেক্ষা কর।
 
এদিকে, ওমর মতিন মানসিক অস্থিরতায় ভুগত বলে দাবি করেছে তার সাবেক স্ত্রী সিতোরা ইউসুফির । ইউসুফি জানায়, ওমর পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল । তাই পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ভর্তির জন্য আবেদনও করে। ২০০৯ সালে অনলাইনে ওমরের সঙ্গে পরিচয় সিতোরার। কয়েকদিন পরেই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই ওমরের অন্য রূপ সামনে আসে বলে দাবি করেছেন তার। ওমর তাকে মারধর করত বলে অভিযোগ।
 
বিশ্বজুড়ে শোক:নাইটক্লাবে হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শোকে সামিল হয় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। অরল্যান্ডো গণহত্যা প্রতিবাদে এবং নিহতদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন আঁঁধারে ডুব দেয় নিউইয়র্কের অন্যতম আকর্ষণ এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং। শ্রদ্ধায় সামিল হয় ৯/১১ হামলার অন্যতম কেন্দ্রস্থল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার-এর ধ্বংসস্তূপে উঠে আসা ওয়ান ওয়ার্ল্ড। সেখানে বিল্ডিংয়ের মাথায় থাকা স্পায়ার (ধাতব অংশ) সমকামিতার প্রতিক বলে পরিচিত রামধনু রঙে জ্বলে ওঠে। ঠিক একইভাবে রামধনু রঙে রেঙে ওঠে প্যারিসের বিখ্যাত আইফেল টাওয়ার। শ্রদ্ধা জানানো হয় অস্ট্রেলিয়াতেও।
 
শনিবার রাতে অরল্যান্ডোর ‘ল্যাতিন নাইট্স’ নামে সমকামী নাইটক্লাবে ভিড় করেছিলেন কমপক্ষে ৩০০ জন। আচমকা এআর-১৫ অ্যাসল্ট রাইফেল এবং একটি হ্যান্ডগান নিয়ে সেখানে ঢুকে পড়ে ওমর মতিন নামে বছর ২৯ বছরের এক যুবক। শুরু হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ! মৃত্যু হয় ৫০ জনের। গুলিবিদ্ধ হয় আরও ৫৩ জন। এই প্রেক্ষিতে নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি’ব্লাসিও ঘোষণা করেন, শহরের সব জায়গায় মার্কিন পতাকা অর্ধনমিত হয়ে থাকবে।
 
ওমর মতিন কে: ফ্লোরিডার অরল্যান্ডে সমকামীদের নৈশক্লাবে হামলাকারী ওমর আফগান বংশোদ্ভুত মার্কিন নাগরিক। ২০১৩ সালে সহকর্মীদের নিয়ে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ জন্য মতিনকে আরো দুই বার জিজ্ঞাসাবাদ করে এফবিআই। তাছাড়া তিনি দ্বৈত ও আক্রমণাত্মক মানসিকতার ব্যক্তি। নিউ ইয়র্কে জন্ম নেওয়া মতিনের বাবা যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন আফগানিস্তান থেকে। পরে তারা ফ্লোরিডার ফোর্ট পিয়ার্সে চলে যায়। এই আমেরিকান মুসলমান যুবক ২০০৬ সালে তার নাম পরিবর্তন করে। মতিন বেসরকারি নিরাপত্তা সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান  জিফোরএস-এর হয়ে কাজ করে আসছিল। ঐ প্রতিষ্ঠান বলছে, মতিনের ‘অতীত পরীক্ষা’ করে দেখেই তাকে চাকরি দিয়েছিল তারা। সন্দেহজনক কিছু তখন পাওয়া যায়নি। সিরিয়া যুদ্ধের সময় আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলা চালানো মোনের মো. আবু সালেহ-র সঙ্গে যোগসাজশ আছে এমন সন্দেহে ২০১৪ সালে মতিনকে আরেক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল এফবিআই। সেবারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
 
এদিকে, মতিনের বাবা ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক একটি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন, যেটি পাকিস্তান সরকারের বিরোধী এবং আফগান তালিবানদের প্রতি ‘সহমর্মী’ বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য। মতিনের বাবা ওই অনুষ্ঠানে তালেবানের পক্ষে বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য করেছেন।